ফ্রান্সে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভের মুখে শিক্ষাক্ষেত্রে কিছু পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। তবে এসব প্রস্তাব তাদের দাবি পূরণে যথেষ্ট নয় জানিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।সোমবার সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা জানান, কিছু শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা সীমিত করা, স্কুল সংস্কারে ঋণ দেওয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির বর্তমান ব্যবস্থার পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বর্তমান ভর্তি পদ্ধতি অন্যায্য।মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি লুই লেতুবলঁ বলেন, ‘আমাদের সব দাবি পূরণ হয়নি। যত দিন প্রয়োজন, আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।’
তবে শিক্ষাক্ষেত্রে এসব প্রস্তাবের বিষয়ে সরকার তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নিশ্চয়তা দেয়নি। প্রস্তাবগুলোর বিস্তারিত জানাতে নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনও পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে কত অর্থ প্রয়োজন হবে, তা-ও স্পষ্ট নয়।ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর সংখ্যালঘু সরকার বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। দেশটির সরকারি ঋণ মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ১২০ শতাংশে পৌঁছেছে। আগামী বছরের বাজেট নিয়ে সমঝোতা করাও কঠিন হয়ে উঠেছে।শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন থামার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। নয় দিন আগে দেশটির কয়েক ডজন শহরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। পরে আন্দোলনে যোগ দেয় বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ও ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের কর্মীরা। জ্বালানির উচ্চমূল্যসহ জীবনযাত্রার ব্যয়ের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের জন্য পরিচিত এই আন্দোলনকারীরা।
মাখোঁ স্বীকার করেছেন, আগামী সপ্তাহান্তেও নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। আগামী ৫ নভেম্বর দেশজুড়ে বড় বিক্ষোভের কর্মসূচি রয়েছে। শনিবারের বিক্ষোভের পর মার্সেই শহরের ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শন ও জরুরি সেবাকর্মীদের ধন্যবাদ জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, নিরাপত্তাব্যবস্থা বহাল থাকবে। একই সঙ্গে শহরের কেন্দ্রের বাইরে বিক্ষোভ সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।এদিকে চলমান অস্থিরতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে কট্টর ডানপন্থী নেত্রী মেরিন লো পেনের জনসমর্থন বেড়েছে। আগামী বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি এগিয়ে রয়েছেন। রোববার প্রকাশিত এক জনমত জরিপে তার সমর্থন ৩২ থেকে ৩৩ দশমিক ৫ শতাংশ পাওয়া গেছে। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কট্টর বামপন্থী নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোর সমর্থন ১৭ শতাংশ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুনেজ জানিয়েছেন, শনিবারের বিক্ষোভে দেশজুড়ে ১ হাজার ৪৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কয়েকটি শহরে কট্টর ডানপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে কট্টর বামপন্থী কর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।
তিনি বলেন, জাতীয়তাবাদী ও পরিচয়ভিত্তিক কয়েকটি সংগঠন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রক্ষার কথা বলে মাঠে নামার আহ্বান জানিয়েছিল। নিস ও মনপেলিয়ের মতো কয়েকটি শহরে এসব গোষ্ঠী সংগঠিতভাবে উপস্থিতঅন্যদিকে, বিক্ষোভের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে বড় ধরনের ক্ষতির কথা জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা। ১৭ অক্টোবরের সহিংসতার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে অনেক দোকান বন্ধ রাখা হয়েছিল। ফ্রান্সের বাণিজ্য ও শিল্প চেম্বারগুলোর নেটওয়ার্কের প্রধান আলাঁ দি ক্রেসেনজো বলেন, অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিক্রি প্রায় ৮০ শতাংশ কমে গেছে।
রেডিও ক্লাসিককে তিনি বলেন, দোকানিরা ক্লান্ত ও হতাশ হয়ে পড়েছেন। এভাবে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স