নিজস্ব প্রতিবেদন : চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে লামিয়া সুলতানা নামের এক স্কুলছাত্রীকে বিদ্যালয় যাওয়ার পথে ছুরিকাঘাত করে কানের দুল, গলার চেইন ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে।রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টায় উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের জাফর নগর অপর্ণাচরণ উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ওই স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী। সে পৌরসভার নুনাছাড়া এলাকার জহুরুল আলমের মেয়ে।অপরদিকে সকাল ৯টায় পৌরসভা এলাকার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন পন্থিছিলা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় নিজের সন্তানদের দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বিবি রহিমা নামে এক গৃহবধূকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে চোখে মলম লাগিয়ে মোবাইল ও কানের দুল ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। তিনি নুনাছাড়া এলাকার পুলিশ সদস্য রবিউল ইসলামের স্ত্রী।স্থানীয়দের দাবি, মাদকের টাকা জোগাড় করতে বেপরোয়া কিশোরগ্যাং। এলাকায় কিশোরগ্যাং ও মাদকের দৌরাত্ম্যে উদ্বিগ্ন সবাই।আহত স্কুলছাত্রী লামিয়ার বড় বোন রুমা আক্তার বলেন, এখন স্কুল দুর্গাপূজার বন্ধ। সামনে এসএসসি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে সকালে স্কুলে প্রাইভেট পড়তে যাচ্ছিল। স্কুল বন্ধ হওয়াতে পুরো এলাকাটি ছিল নির্জন। স্কুল থেকে একটু দূরে দুই কিশোর আমার বোনের গতিরোধ করে গলায় ছুরি ধরে কানের দুল ও চেইন নিয়ে যায়। এ সময় তার শরীরে বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করে। তারা সিএনজি যোগে এসেছিল। পরে আমার বোন থেকে দ্রুত সবকিছু ছিনিয়ে নিয়ে আবার সিএনজি করে চলে যায়।তিনি আরও বলেন, হামলাকারীদের মুখে মাস্ক ও মাথায় ক্যাপ থাকায় তাদের চিনতে পারেনি। এর আগেও একই কিশোররা একাধিকবার তার পথ আটকে বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বিষয়ে জানতে চেয়েছিল। এ সময় তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল এবং বিষয়টি ওই শিক্ষককে না জানানোর জন্য হুমকি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আমার বোন বিষয়টি শিক্ষককে জানিয়ে দেওয়ার কারণে এ ঘটনাটি ঘটতে পারে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এভাবে যদি দিনের দুপুরে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মানুষের সর্বস্ব লুট করে নিয়ে যায়, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে।ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী রবিউল ইসলাম বলেন, আমার স্ত্রী দুই সন্তানকে পন্থছিলা ইসলামীয়া দাখিল নুরানি মাদ্রাসায় দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মাদ্রাসার বিপরীতে পশ্চিম পাশে দাঁড়ালে একটি সিএনজিকে দাঁড়ানোর জন্য সংকেত দেন তিনি। সিএনজিতে উঠার সঙ্গে সঙ্গে কয়েকজন কিশোর তাকে চেপে ধরে। এক পর্যায়ে সে যেন তাদেরকে চিনতে না পারে চোখে মলম লাগিয়ে দেয়। এতে এসে অজ্ঞান হয়ে পড়লে মোবাইল ও কানের দুল নিয়ে সড়কে ফেলে যায়। আমি থানায় একটি অভিযোগ করেছি।
জাফর নগর অপর্ণাচরণ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. জাহেদ বলেন, বেশ কয়েক মাস আগে লামিয়া সুলতানাকে আমার বিষয়ে জিজ্ঞেস করেছিল কিছু অজ্ঞাত কিশোর। বিষয়টি সে আমাকে জানিয়েছিল। কিন্তু কে বা কারা আমাকে খোঁজ করেছিল এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। সে ঘটনার পর থেকে আমি আতঙ্কের মধ্যে আছি।সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দুটি ঘটনার অভিযোগ পেয়েছি, এ ব্যাপারে তদন্ত করে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
সূত্র – কাল বেলা