কৃষকদের সঙ্গে মিলছে না কৃষি অধিদপ্তরের হিসাব
নিজস্ব প্রতিবেদক।
বরিশালের আব্দুল আজিজ রতন মোল্লাহ নিজের দেড় একর জমির সুপারির বাগান এ মৌসুমে বিক্রি করেছেন ৩০ হাজার টাকায়। মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার আজিমপুর গ্রামের এ বাগান মালিক গত বছর একই বাগান বিক্রি করেছিলেন ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকায়। আব্দুল আজিজ বলছেন, এ বছর সুপারির ফলন অনেক কম হয়েছে। একই তথ্য দিচ্ছেন হিজলা উপজেলার কাউরিয়া গ্রামের বাগান মালিক সৈয়দ আহসান হাবিব। তিনি জানান, গত বছর যে বাগান থেকে ৮০ হাজার টাকার সুপারি বিক্রি করেছেন, এ বছর একই বাগান বিক্রি হয়েছে ২০ হাজার টাকার। এ বাগান মালিক জানান, বাগান বা গাছে কোনো সমস্যা চোখে পড়েনি তার। তবে এ বছর বৃষ্টি বেশি হওয়ায় সুপারির ফলন কম হয়েছে। তবে বাগান মালিক ও কৃষকদের তথ্যের সঙ্গে মিলছে না বরিশাল আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য। কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত বছরের তুলনায় এবার ফলন বেশি হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের পাঠানো তথ্য থেকে রিপোর্ট প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। তবে মাঠের তথ্য কীভাবে সংগ্রহ করা হয়, এমন প্রশ্নের ব্যাখ্যা নেই তাদের কাছে। কয়েকজন কৃষক ও বাগান মালিককে জিজ্ঞেস করা হলে তাদের মধ্যে সবাই জানান, কোনো কর্মকর্তাই তাদের কাছে তথ্য সংগ্রহ করতে যাননি।
আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, গত বছর বরিশাল বিভাগে সুপারির মৌসুমে ১৭ হাজার ৬৯ দশমিক ৫ হেক্টর জমির বাগানে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬৮৭ দশমিক ৪ টন সুপারি উৎপাদন হয়। আর এ বছর ১৭ হাজার ৭৮৮ হেক্টরে উৎপাদন হয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার ৭০৭ টন সুপারি। গত বছর হেক্টরপ্রতি উৎপাদন হয়েছিল আট টন। এ বছর হেক্টরপ্রতি উৎপাদন হয়েছে ১০ টন। তবে কৃষি অধিদপ্তরের এ হিসাব ব্যবহারিক নয় বলে অভিযোগ করেছেন কৃষকরা। তারা বলছেন, এ বছর তো বটে, গত ১০ বছরেও কোনো কৃষি কর্মকর্তা জমির পরিমাণ বা সুপারি উৎপাদন বিষয়ে তাদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেননি। জেলার মেহেন্দিগঞ্জ, মুলাদী, হিজলা, বাবুগঞ্জসহ ১০ উপজেলার একাধিক বাগান মালিকের বক্তব্য, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আজগুবি কাগুজে হিসাব তৈরি করেছে।
এ বিষয়ে বরিশাল আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রধান সহকারী গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘জেলা ও উপজেলা থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমরা রিপোর্ট তৈরি করে অধিদপ্তরে পাঠাই। উপজেলা ও জেলা কৃষি কর্মকর্তারা কীভাবে তথ্য সংগ্রহ করেন, তা আমার জানা নেই।’
তবে এ বছর আগের তুলনায় সুপারির ফলন কম হয়েছে বলে স্বীকার করেন বরিশাল আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম সিকদার। তথ্যবিভ্রাট বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের তথ্য কে কোথায় পেয়েছে তা জেলা কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চাওয়া হবে।’
সূত্র – বণিক বার্তা