বিশ্ববাজারে দাম কমলেও প্রভাব নেই দেশে
নিজস্ব প্রতিবেদক।
বিশ্ববাজারে গমের দাম নিম্নমুখী। দেশেও চাহিদা অনুপাতে পর্যাপ্ত আমদানি হওয়ায় সংকট নেই। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে একই দরে লেনদেন হচ্ছে আটা ও ময়দা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি মূল্য কমলেও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন পর্যায়ে আটা-ময়দার দাম কমছে না। বিশ্ববাজারে বর্তমানে কয়েক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন দামে গম বেচাকেনা হচ্ছে। ২০২১ সালে ভালো মানের গমের দাম ছিল টনপ্রতি ৩১৫ ডলার। গত অক্টোবরে একই মানের গমের গড় বুকিং দর ২৭৯ ডলারে নেমে আসে। অন্যদিকে ২০২১ সালে মাঝারি মানের গমের দাম ছিল টনপ্রতি গড়ে ২৮২ ডলার, অক্টোবরে যা ছিল টনপ্রতি ২৩৩ ডলার। দেশে ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জ। অঞ্চলটিতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি মণ (৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) মাঝারি মানের গম (রাশিয়া, ইউক্রেন ও ভারত থেকে আমদানীকৃত) বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৩৩০ টাকায়। কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি হওয়া অপেক্ষাকৃত ভালো মানের গম লেনদেন হচ্ছে ১ হাজার ৪৫০ থেকে ১ হাজার ৪৭০ টাকায়। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দেয়া তথ্যমতে, বর্তমানে প্রতি কেজি খোলা আটা খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ৪০-৪৫ টাকায়। প্যাকেটজাত আটা বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৫০-৫৫ টাকায়। অন্যদিকে খোলা ময়দা বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৫৫-৬০ টাকা ও প্যাকেটজাত ময়দা বিক্রি হচ্ছে ৬৫-৭৫ টাকায়।
বাজারসংশ্লিষ্টরা জানান, কয়েক মাস ধরে দেশের বাজারে একই দামে গম বেচাকেনা হচ্ছে। বিশ্ববাজারের সঙ্গে অভ্যন্তরীণ বাজারের সমন্বয় না হওয়ায় এখনো আগের দামেই আটা-ময়দা বিক্রি করছে ফ্লাওয়ার মিলগুলো।
এ বিষয়ে খাতুনগঞ্জের গম আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স এ জামান ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. নুরুল আলম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বিশ্ববাজারে গমের দাম কমেছে। কিন্তু বর্তমানে পণ্যটির শিপিং চার্জ অনেক বেশি। এছাড়া স্বল্প দূরত্বের একাধিক বৈশ্বিক রুট পরিবর্তন হয়েছে। ফলে আমদানিতে সময়ও প্রয়োজন হচ্ছে বেশি। এতে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন পর্যায়ে খরচ ঊর্ধ্বমুখী। তাই বিশ্ববাজারে দাম কিছুটা কমে এলেও সে অনুযায়ী দেশে আটা-ময়দার দাম এখনো সমন্বয় হয়নি।’
বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ পিংকশিট প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালের পর ২০২২ সালে বিশ্ববাজারে গমের দাম ছিল টনপ্রতি রেকর্ড ৩৯২ ডলার, গত বছর তা কমে ২৫৭ ডলারে নেমে আসে। অন্যদিকে কানাডা থেকে আমদানি হওয়া ভালো মানের গমের দাম ২০২১ সালে ছিল টনপ্রতি ৩১৫ ডলার। ২০২২ সালে তা সর্বোচ্চ ৪৩০ ডলারে লেনদেন হয়, গত বছর আবার তা কমে ৩৪০ ডলারে নেমে আসে।
পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, বিশ্ববাজারে ধারাবাহিক গমের দাম কমলেও দেশের বাজারে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন হয়নি।
সূত্র – বণিক বার্তা