1. admin@dailyajkershironam.com : Ajker Shironam :
  2. adminrabiul@gmail.com : Md Rafiqul Islam : Md Rafiqul Islam
  3. dainikajkershironamnews@gmail.com : Rabiul Islam : Rabiul Islam
  4. newsroomajkershironam@gmail.com : Adminnews Room : News Room
  5. ajkershironam24news@gmail.com : Nusrat Rita : Nusrat Rita
  6. rabiulislam2024bd@gmail.com : Raja Babu : Raja Babu
  7. bdbartaonline@gmail.com : Moni : Moni
  8. konikabd2024@gmail.com : Sumaya Aktar Mow : Sumaya Aktar Mow
সব কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় বানিয়ে ফেলাই কি সমাধান? - দৈনিক আজকের শিরোনাম
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০২:২৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম
শক্তি প্রয়োগ করে ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা সম্ভব নয়: পেজেশকিয়ান ভাঙ্গায় এক্সপ্রেসওয়েতে দুই মোটরসাইকেলের সং’ঘর্ষ, নি’হত বেড়ে ট্রাম্পের অনুরোধেও নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকারে যাবেন না আইজেনকোট স্কুল খোলার পর ফ্রান্সে আবারও শিক্ষার্থীদের বি’ক্ষোভ তবে অ’বরোধ কমেছে গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলন: তিন মা’মলায় আ’সামি ৪ হাজার, গ্রে’প্তার ৩০ ৩৪৭ জনকে নিয়োগ দেবে সরকারি প্রতিষ্ঠান, অষ্টম শ্রেণি পাসেও আবেদন দাম বাড়ানোর পর কোন সিলিন্ডারের দাম কত গাজীপুরে শ্রমিক আ’ন্দোলনে পুলিশের গু’লিতে হ’তাহতের খবর গুজব ইউক্রেনের আশ্রয়কেন্দ্রে রাশিয়ার বিমান হা’মলা, নি’হত ২৬ রাজনীতির দ’খলে জনজীবন, ব’লি হচ্ছে সাধারণ মানুষ

সব কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় বানিয়ে ফেলাই কি সমাধান?

নিজস্ব প্রতিবেদক।
  • Update Time : শনিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২৪
  • ৮৯ Time View

সব কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় বানিয়ে ফেলাই কি সমাধান?

নিজস্ব প্রতিবেদক।

ঢাকার সরকারি তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণা দেয়ার দাবিতে শিক্ষার্থীরা কলেজের সম্মুখের রাস্তা ১৮ নভেম্বর বন্ধ করে দেয় এবং তেজগাঁওয়ে ট্রেন থামানোর চেষ্টা করে ট্রেনে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে শিশু ও নারীসহ বহু মানুষকে আহত করেছে। একটি সরকারি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা নিয়ে নিচের প্রশ্নগুলো করা যেতে পারে।এক. তিতুমীর কলেজকে কেন বিশ্ববিদ্যালয় বানাতে হবে, বাংলাদেশে কি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা অনেক কম?দুই. আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দেশকে কী দিচ্ছে? তিন. আমাদের কলেজগুলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর না করাই কি শিক্ষার বড় সমস্যা?

চার. কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় বানানোর সঙ্গে সাধারণ মানুষের, রিকশা, বাসযাত্রী ও ট্রেনের যাত্রীদের হেনস্তা করা, রক্তাক্ত করার মধ্যে কী সম্পর্ক রয়েছে?

পাঁচ. একটি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা বা দেশে কয়টি বিশ্ববিদ্যালয় থাকবে সেই সিদ্ধান্ত কি শিক্ষার্থীরা নেবে নাকি পলিসি মেকাররা নেবে?

ছয়. কিছু শিক্ষার্থী এ ধরনের দাবি করতেই পারে কিন্তু দাবি আদায়ের পথ কি ওই একটাই, সাধারণ মানুষকে জিম্মি করা আর কষ্ট দেয়া?

দেশের বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণা বা পারসেপশন কী? ধরুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বা ঢাকা কলেজ! এর আশপাশের যত দোকানদার ফুটপাত থেকে স্বর্ণের দোকান—সব ধরনের দোকান থেকেই একদল শিক্ষার্থী নিয়মিত চাঁদা তোলে। কথায় কথায় দোকানদার, পথচারী, বাস, রিকশা সব ধরনের যানবাহনের ক্ষতি করা, চালকদের পান থেকে চুন খসলে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা, যানবাহন ভেঙে ফেলা, রিকশাওয়ালাদের ভাড়া না দেয়া—সাধারণ মানুষের কাছে শিক্ষার্থীদের এই পরিচয়। তারা বরং চায় তাদের আশপাশে এ জাতীয় কোনো প্রতিষ্ঠান না থাকুক। সচেতন ও শিক্ষিত সমাজের কাছে আমাদের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থী বা এগুলোর মূল্যায়ন কী? অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমাদের উচ্চতর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এক ধরনের বেকার ও কর্মবিমুখ জনগোষ্ঠী তৈরির কারখানা। অশিক্ষিত বেকার একটা কিছু করে খেতে পারে কিন্তু শিক্ষিত বেকারদের অবস্থা ভয়ানক! তারা নিজেরা কোনো কাজ করবে না, কারণ এক-দুটি সার্টিফিকেট আছে। তারা বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজন তথা সমাজের ওপর বোঝা হয়ে থাকে বছরের পর বছর। সাধারণ কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ছাত্ররাজনীতি, পেশিশক্তির মহড়া আর শিক্ষক রাজনীতির জাঁতাকলে পড়ে কী ধরনের শিক্ষার্থী উৎপাদন করছে তা পুরো জাতি জানে। সেখানে এরই মধ্যে সরকারি-বেসরকারি মিলে দুইশর কাছাকাছি। আরো নতুন নতুন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় তথা সার্টিফিকেট বিক্রির দোকান অনুমোদন পাচ্ছে। আর জেলায় জেলায় উর্বর জমি নষ্ট করে নতুন নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় তৈরির মহাপরিকল্পনায় মত্ত ছিল পূর্ববর্তী পতিত সরকার। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারণাই পাল্টে দিয়েছিল। একটি বিশ্ববিদ্যালয় হবে একটি বিশাল গবেষণাগার, জ্ঞানের আধার যেখানে বিচরণ করবেন দেশের প্রকৃত জ্ঞানী ও গুণীরা। তারা দেশ ও জাতিকে নেতৃত্ব দেয়ার মতো লোক তৈরি করবে, বিজ্ঞানী তৈরি করবে। অথচ পতিত সরকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে তাদের সব ধরনের দুষ্কর্মের পকেট হিসেবে, তাদের পেটোয়া বাহিনী এবং লাঠিয়াল বাহিনী তৈরির কারখানা এবং আজ্ঞাবহ কিছু শিক্ষকদের মাধ্যমে দেশের সর্বত্র নিয়ন্ত্রণ নেয়ার জন্য এ পরিকল্পনা করেছে। দেশ এসব অভিশাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে কীভাবে এসবের সমাধান করা যায়। তার মধ্যে আবার কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় করতে হবে এবং সেজন্য মানুষকে শাস্তি দিতে হবে, কষ্ট দিতে হবে। এ কেমনতর খেলা! আমাদের বিশেষায়িত উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে তাকালে কী দেখতে পাই? প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা আমাদের মেডিকেল কলেজ, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় এবং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। সবারই আশা থাকে তারা দেশকে অনেক কিছু দেবে, আর তাই দরিদ্র জনগণের করের টাকায় সরকার অনেক অর্থ ব্যয় করে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার আর কৃষিবিদ তৈরির জন্য। কিন্তু বিনিময়ে আমরা কী পাই? যেকোনো রোগের জন্য যাদের একটু সামর্থ্য আছে তারা, আর রোগ একটু জটিল হলে সহায় সম্পদ বিক্রি করে চিকিৎসার জন্য সবাই ভারতের ডাক্তারদের কাছে দৌড়ায়। দেশী ডাক্তারদের ওপর কেউ আস্থা রাখতে পারছে না। আর যাদের টাকা-পয়সা একটু বেশি, তারা হয় থাইল্যান্ড না হয় সিঙ্গাপুরে যায় চিকিৎসার জন্য। তাহলে এত অর্থ ব্যয় করে ডাক্তার বানানোর কী দরকার?

আমরা অনেক প্রকৌশলী তৈরি করছি কিন্তু দেশের ব্রিজ, কালভার্ট, ফ্লাইওভার বানানোর জন্য চীন অথবা জাপানের প্রকৌশলীদের সাহায্য নিতে হয়। দেশের ইঞ্জিনিয়াররা তাদের অর্জিত জ্ঞান জলাঞ্জলি দিয়ে সরকারি কেরানি হওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ে। একইভাবে কৃষিপ্রধান দেশে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা কৃষিবিদদের অনেক অবদান রাখার কথা, অথচ তারা হচ্ছে ব্যাংকার না হয় পুলিশ। এই হচ্ছে বিশেষায়িত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গ্র্যাজুয়েটদের অবস্থা। আর সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বেকার তৈরির প্রতিষ্ঠান ছাড়া তেমন কিছু নয়। তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের তকমা দিয়ে জাতির কি উপকার হবে? শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগতভাবেই-বা কী উপকার হবে? অভিভাবকরা কি অতিরিক্ত কোনো সুবিধা পাবেন?

দেশে সরকারি চাকরির সংখ্যা অত্যন্ত সীমিত! সেটি যে হারে গ্র্যাজুয়েট বের হচ্ছে তার কাছে নস্যি মাত্র। চাকরি করতে হবে হয় বেসরকারি কোনো উদ্যোক্তার প্রতিষ্ঠানে কিংবা বিদেশী বা আন্তর্জাতিক কোনো প্রতিষ্ঠানে। এসব প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে হলেও তো প্র্যাকটিক্যাল কিছু স্কিল অর্জন করতে হয়। আমাদের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সেগুলোর ধারেকাছেও নেই, কিছু থিউরি পড়ানো ছাড়া, তাও হয়তো কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে হাতেগোনা কয়েকজন নিজ বিষয় সম্পর্কে ভালোভাবে কিছু বলতে পারেন। ফলে যেটি হচ্ছে, কাজের জন্য আমাদের দেশের ও বিদেশের প্রতিষ্ঠানগুলো বাধ্য হয়ে পার্শ্ববর্তী দেশগুলো থেকে কর্মী ও কর্মকর্তা নিয়ে আসছে, কারণ তাদের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত যোগ্যতা রয়েছে। আর আমরা প্রডাকশন দিচ্ছি বেকারের! এ বাস্তবতায় একটি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় করার জন্য রাস্তাঘাট বন্ধ করে দেয়ার মধ্যে জনস্বার্থবিরোধী কাজ এ দেশের শিক্ষার্থীরা আর কতকাল এ খেলা চলবে?

শিক্ষার্থীদের যদি কোনো কারণে আন্দোলন করতেই হয় সেটি হতে হবে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ, অত্যন্ত যুক্তিসংগত। তারা কোনো বিষয়ে বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করতে পারে, জনগণের মতামত নিতে পারে। ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রচার চালাতে পারে কেন তারা কোনো একটি বিষয় চাচ্ছে। তারপর সড়কের পাশে, প্রেস ক্লাবের সামনে তাদের দাবির কথা জানাতে পারে। পরে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি দল সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে যেতে পারে। এভাবে সবকিছু নিয়মতান্ত্রিক হতে হবে, কোনোভাবেই তাদের দাবি-দাওয়া আদায় যাতে সাধারণ মানুষের কষ্টের কারণ না হয়। কারণ মানুষ এমনিতেই বিভিন্ন ধরনের উৎপীড়নের মধ্যে আছে। তারমধ্যে আবার শিক্ষার্থীদের উৎপীড়ন!

এ দেশের সাধারণ মানুষ কি সারা জীবনই অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাবে? রাস্তায় নামলে গন্তব্যে পৌঁছা তাদের অনিশ্চিত, তাদের জীবন হুমকির মুখে, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি তাদের জীবনে নাভিশ্বাস উঠিয়ে ফেলছে। তার মধ্যে তাদের যেকোনো ধরনের উটকো ঝামেলায় ফেলার অধিকার কারোরই নেই। আমাদের উচ্চতর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা যত তাড়াতাড়ি বিষয়গুলো বুঝবে, দেশের জন্য ততই মঙ্গল।

সূত্র – বণিক বার্তা

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2024 Daily Ajker Shironam
Theme Designed BY Kh Raad (Frilix Group)