রিয়াদ মাহমুদ সিকদার, কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি:
পিরোজপুরের কাউখালীতে পোস্ট অফিসে চিঠির বক্স থাকলেও নেই শুধু চিঠি, আছে শুধু পুরানো স্মৃতি।
উপজেলা পোস্ট অফিসের ডাক পিয়নরা সকাল হলেই তাদের নির্ধারিত পোশাক পড়ে সাইকেলে বা কাঁদে বস্তা নিয়ে বেরিয়ে পড়তো চিঠি সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে। বস্তার ভেতর থাকতো প্রিয়জনের চিঠির জীবন্ত সব অনুভূতি, আবেগ ও ভালোবাসা। প্রিয়জনরা অধীর অপেক্ষা থাকতো কখন প্রিয়জনেরচিঠি আসবে।
ডাক পিয়নের সাইকেলের টুংটাং পরিচিতি শব্দে মুখরিত হতো এলাকায়। ডাক পিয়নরা বাড়ির কাছে গিয়ে জোরে সোরে আওয়াজ করতো চিঠি আসছে চিঠি আসছে, তাদের আওয়াজ শুনে ঘর থেকে বিভিন্ন শ্রেণীর পেশার মানুষ চিঠি ডাক পিয়নের কাছ থেকে গ্রহণ করত।
আজও ডাক বাক্স আছে, ডাক পিওনও আছে নেই শুধু কাঙ্ক্ষিত চিঠি। ডাকবাক্স গুলো দাঁড়িয়ে আছে কালের সাক্ষী হিসেবে। কয়েক যুগ আগেও যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল চিঠি আদান প্রদান। বাবা লিখতো ছেলেকে, স্বামী লিখত স্ত্রীকে, প্রেমিক লিখতো প্রেমিকাকে, প্রবাসীরা লিখত নিজের পরিবারকে। যুগের পরিবর্তনের ফলে আজ আর কেউ ওইভাবে চিঠি লিখেনা।
পৃথিবী এখন সবার হাতের মুঠোয়। এখন সেকেন্ডের ভিতরে চলে আসছে মেসেজ, ফোন ও স্ক্রিনে ভেসে উঠছে প্রিয়জনের মুখ। সরকারি বেসরকারি স্বায়ত্তশাসিত কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে ইন্টারনেট, ইমেইল ও বিভিন্ন কোম্পানির স্মার্টফোন। চিঠির পরিমাণ কমে যাওয়ার কারণে কাউখালী উপজেলা পোস্ট অফিস সহ উপজেলার ১৮টি শাখা পোস্ট অফিসে কর্মকর্তা কর্মচারীদের কর্মব্যস্ততা কমে গেছে।
এ ব্যাপারে কাউখালী উপজেলা ভারপ্রাপ্ত পোস্টমাস্টার পারভেজ হাওলাদার জানান, বর্তমান আধুনিক যুগে চিঠিপত্র আদান-প্রদান কমে গেছে। এখন সেকেন্ডের ভিতরে মেসেঞ্জার, ইমু সহ বিভিন্ন মাধ্যমে সরাসরি কথাবার্তা বলে। তবে সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান থেকে রেজিস্ট্রি চিঠি পত্র আদান-প্রদান হচ্ছে।