মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় নীতি সুদহার ১০ শতাংশ করল বাংলাদেশ ব্যাংক
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ চেষ্টার অংশ হিসেবে আরেক দফা বাড়ানো হলো নীতি সুদহার। এবার নীতি সুদহার ৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ১০ শতাংশে উন্নীত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ চেষ্টার অংশ হিসেবে আরেক দফা বাড়ানো হলো নীতি সুদহার। এবার নীতি সুদহার ৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ১০ শতাংশে উন্নীত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে ২৭ অক্টোবর থেকে। গতকাল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জারি করা এক সার্কুলারে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এর আগে গত ২৫ আগস্ট উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নীতি সুদহার ৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৯ শতাংশ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর প্রায় এক মাস পর গত ২৪ সেপ্টেম্বর সুদহার ৯ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে করা হয় ৯ দশমিক ৫ শতাংশ।
সর্বশেষ নীতি সুদহার বাড়ানোর বিষয়ে সব ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘২৫ আগস্ট অনুষ্ঠিত মুদ্রানীতি কমিটির পঞ্চম সভায় মূল্যস্ফীতির লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত সংকোচনমূলক নীতি অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’ তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কোন সময়ের মধ্যে মূল্যস্ফীতি কোন পর্যায়ে নামিয়ে আনতে চায়, সে সম্পর্কে চিঠিতে কিছু বলা হয়নি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর আগেই জানিয়েছিলেন, মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ করতে অচিরেই সুদের হার বাড়ানো হবে। সে ক্ষেত্রে প্রথম দফায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিনির্ধারণী বা রেপো সুদহার বাড়িয়ে ৯ শতাংশ করা হবে। পরে এ হার আরো বাড়িয়ে ১০ শতাংশে উন্নীত করা হবে। সেই ধারাবাহিকতায় আজ সর্বশেষ নীতি সুদহার বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়ে সার্কুলার জারি করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এছাড়া স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) ৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ১১ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটিও (এসডিএফ) ৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে করা হয়েছে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত কনট্র্যাকশনারি মানিটরি পলিসি (সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি) অব্যাহত থাকবে। অক্টোবরেও পলিসি রেট বাড়ানো হবে। আগামী মার্চ বা এপ্রিল নাগাদ মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতি স্থিতিশীল হবে বলে আমি আশাবাদী।’
২০২২ সালের মে মাসে নীতি সুদহার ছিল ৫ শতাংশ। সে সময় থেকে এখন পর্যন্ত মোট ১১ বার বাড়ানো হয়েছে নীতি সুদহার। আর চলতি বছরে বাড়ানো হলো পঞ্চমবারের মতো। নীতি সুদহার বাড়ানোর মূল লক্ষ্য হলো বাজারে অর্থের সরবরাহ কমিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনা।
বাংলাদেশ পরিসংখান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাব অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে দেশে মূল্যস্ফীতি কমেছে। এ মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯ দশমিক ৯২ শতাংশ। খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশের ওপরে থাকলেও তা আগের মাসের তুলনায় কমার কথা জানায় বিবিএস। সেপ্টেম্বরে এ হার ছিল ১০ দশমিক ৪০ শতাংশ। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে টানা দুই মাস মূল্যস্ফীতি কমার তথ্য দিয়েছিল সরকারি এ সংস্থা।
সূত্র – বণিক বার্তা