নিজস্ব প্রতিবেদন : ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় পাসের হার ৫১ দশমিক ৪৪ শতাংশ। অর্থাৎ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের প্রায় অর্ধেকই অকৃতকার্য হয়েছেন। এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ১৩৭ জন। গত বছরের তুলনায় ফলাফলে অবনতি হয়েছে বলে বোর্ডের প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা গেছে।শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের সম্মেলনকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ৭৩ হাজার ৪২০ শিক্ষার্থী পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেছিলেন। তাদের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ৭০ হাজার ৬৭৩ জন। পাস করেছেন ৩৬ হাজার ৩৫৪ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ৩৪ হাজার ৩১৯ জন। পাসের হার ৫১ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
পাস করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ১৫ হাজার ৬৪৭ এবং ছাত্রী ২০ হাজার ৭০৭ জন। ছাত্রদের পাসের হার ৪৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ, ছাত্রীদের ৫৫ দশমিক ০২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১ হাজার ১৮ ছাত্র এবং ১ হাজার ১১৯ ছাত্রী।বিভাগভিত্তিক ফলাফলে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার সবচেয়ে বেশি, ৭৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ। মানবিক বিভাগে পাসের হার ৪৩ দশমিক ৮৭ শতাংশ এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৪৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ।
জেলাভিত্তিক ফলাফলে এগিয়ে রয়েছে ময়মনসিংহ জেলা। এ জেলায় পাসের হার ৫৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ। অন্যদিকে শেরপুরে ৪৫ দশমিক ৬৫, নেত্রকোনায় ৪৩ দশমিক ৯১ এবং জামালপুরে ৪৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন।
এ বছর বোর্ডের অধীন পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছেন। বিপরীতে ১৯টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি।ফলাফল বিশ্লেষণে ইংরেজি ও হিসাববিজ্ঞানে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতার বিষয়টি উঠে এসেছে। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. শাহাদাত উল্লাহ বলেন, ইংরেজি বিষয়ে পাসের হার বাড়লে সামগ্রিক ফলাফল আরও ভালো হতো। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের হিসাববিজ্ঞান বিষয়েও তুলনামূলক বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। এ বিষয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও সচেতন হওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত তদারকি বাড়াতে হবে।
যেসব প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি, সেসব প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হবে বলে জানান পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক। তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলো সীমান্তবর্তী ও প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত। সেখানে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা তুলনামূলক কম। এসব সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।বোর্ডের সচিব অধ্যাপক মো. এনামুল হক বলেন, পরীক্ষার খাতা যথাযথভাবে মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পড়াশোনা না করেও ভালো ফল করার যে সংস্কৃতি আগে চালু হয়েছিল, সেখান থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা চলছে। অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের হতাশ না হয়ে নতুন উদ্যমে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগামী দিনে ফলাফলের উন্নতি সম্ভব।
ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে বোর্ডের সচিব অধ্যাপক মো. এনামুল হক ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. শাহাদাত উল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্তভাবে সম্পন্ন এবং ফলাফল প্রকাশে বিভাগীয় প্রশাসন, চার জেলার জেলা প্রশাসন, উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসন এবং বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতার কথাও তুলে ধরেন তারা।
সূত্র – কাল বেলা