নিজস্ব প্রতিনিধি: প্রায় শত বছরের পুরোনো এই বাজারটি এখন উপজেলার অন্যতম বৃহৎ পাইকারি পেঁয়াজের বাজার হিসেবে পরিচিত। সপ্তাহে পাঁচ দিন বসে হাট। প্রতি হাটে কেনাবেচা হয় প্রায় ২ থেকে ৩ হাজার মণ পেঁয়াজ। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা আসেন এই বাজারে। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই বাজারটির সংকীর্ণ রাস্তা, জরাজীর্ণ ভবন ও অব্যবস্থাপনায় দেখা দিয়েছে বেহাল অবস্থা।
এ বিষয়ে বাজার ব্যাবসায়ী কমিটির সভাপতি ও বাউসা ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি এনামুল হক বলেন, সরকারি ইজারাভূক্ত এই বাজারটির উল্লখযোগ্য কোন উন্নয়ন নেই। বাজারে দূরদূরান্ত থেকে আসা ক্রেতা বিক্রেতাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এ বাজারে পেঁয়াজ কেনা বেচার সময় চাষিদের সপ্তাহে দুইদিন ব্যাতিত ইজারা দিতে হয় না। বৃহৎ সার্থে বাজারটির উন্নয় জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বাজারের উন্নয়ন কল্পে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ করবেন বলে তিনা আশা প্রকাশ করেন।
স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত পেঁয়াজ কেনাবেচার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পাইকাররাও এখান থেকে পেঁয়াজ সংগ্রহ করেন। প্রতি হাটে গড় হিসেবে দেখা যায় ৪৫ লক্ষ বা তার অধিক টাকা লেনদেন হয়। এতে বাজারটি স্থানীয় কৃষক, ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।
তবে এত গুরুত্বপূর্ণ একটি বাজারে রয়েছে নানা অব্যবস্থাপনার অভিযোগ। সংকীর্ণ রাস্তা দিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতা ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচলে ভোগান্তি তৈরি হয়। পাশাপাশি জরাজীর্ণ ভবন ও বাজারের সার্বিক অবকাঠামোগত সমস্যায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক কার্যক্রম।
সরকারি ইজারায় পরিচালিত এই বাজারের অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে বাজারটির পরিবেশ উন্নত হওয়ার পাশাপাশি কৃষক ও ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগও কমতে পারে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তকি ফয়সাল তালুকদার বলেন, বিষ্টমন্ডলের বাজারের দুর্ভোগ সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি। সরেজমিনে দেখে জনদূর্ভোগ লাঘবে বাজার সম্প্রসারনের ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।
শত বছরের ঐতিহ্য আর বিপুল বাণিজ্যিক সম্ভাবনা থাকা বিষ্টমন্ডলের বাজারটি যেন অব্যবস্থাপনার কারণে পিছিয়ে না পড়ে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের।