অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের নতুন অবৈধ বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে যুক্তরাজ্যের পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপের প্রভাবশালী দেশ ফ্রান্স ও জি-সেভেনভুক্ত দেশ কানাডাও।মঙ্গলবার (০৯ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডা জানায়, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলো থেকে পণ্য আমদানি বন্ধে তারা নিজ নিজ দেশে পদক্ষেপ নেবে। বসতিগুলোর সম্প্রসারণ ও ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বাড়ার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।কানাডা, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে আরও কয়েকটি দেশ বসতিগুলো থেকে পণ্যের বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা বা বিধিনিষেধ আরোপের উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে। মোট ১২টি দেশ পশ্চিম তীরে আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ হিসেবে বিবেচিত ইসরায়েলি বসতিগুলোর পণ্যের বাণিজ্য সীমিত করার বিষয়ে একমত হয়েছে।ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো বলেন, পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ ‘উন্মত্ত পর্যায়ে’ পৌঁছেছে এবং ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বেড়েছে। এসব কারণেই ফ্রান্স বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে।কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিতা আনান্দও বলেন, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলোর সম্প্রসারণ দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তাই বসতিগুলোর পণ্যের বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সার মঙ্গলবার বলেন, এসব পদক্ষেপের জবাবে পূর্ব জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করা হবে। একই সঙ্গে গাজা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন একটি সমন্বয় মিশনে ব্রিটেন আর অংশ নেবে না বলেও জানান তিনি।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, অন্যায় ও দুর্ভোগের বিষয়ে শুধু সমালোচনা না করে এখন পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এসেছে।ফ্রান্স, কানাডা ও যুক্তরাজ্যের এই উদ্যোগের পাশাপাশি আরও কয়েকটি ইউরোপীয় দেশও ইসরায়েলি বসতিগুলোর বাণিজ্য সীমিত করার পদক্ষেপকে সমর্থন করেছে। তাদের বক্তব্য, পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ ও সহিংসতা দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইসরায়েল অবশ্য এসব পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও নিষেধাজ্ঞাগুলো পশ্চিম তীরে পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন। ওয়াশিংটন নিজে ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেবে না বলে জানিয়েছে।ইসরায়েল অবশ্য এসব পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও নিষেধাজ্ঞাগুলো পশ্চিম তীরে পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন। ওয়াশিংটন নিজে ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেবে না বলে জানিয়েছে।
ব্রিটেনের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্রমেই উত্তেজনাপূর্ণ হয়েছে। গাজা যুদ্ধ, পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর বসতি স্থাপনকারীদের হামলা নিয়ে লন্ডন ইসরায়েলের সমালোচনা করে আসছে।
সূত্র: রয়টার্স