ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বড় ছেলে ইয়াইর নেতানিয়াহুকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল ইরানের একটি চক্র। হুমকি শনাক্ত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্য থেকে তাকে দ্রুত ইসরায়েলে ফিরিয়ে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে মার্কিন ডানপন্থি সংবাদমাধ্যম নিউজম্যাক্স।একজন মার্কিন সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ডিসেম্বরে ইসরায়েলি গোয়েন্দারা জানতে পারে, ফ্লোরিডার হল্যান্ডেল বিচ এলাকায় অবস্থানরত ৩৫ বছর বয়সী ইয়াইরকে হত্যার পরিকল্পনা করছে ইরানের গুপ্তচররা।ওই সময় ইয়াইর মিয়ামির কাছাকাছি হল্যান্ডেলে ছিলেন। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ইরানের একটি সেল তখন মিয়ামি এলাকায় সক্রিয় ছিল এবং ইয়াইরের বাসস্থান ও দৈনন্দিন চলাফেরার ওপর নজরদারিও চালিয়েছিল।
চক্রান্তের তথ্য পাওয়ার পর দ্রুত মার্কিন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হলে ইসরায়েলি নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে ইয়াইরকে অবিলম্বে ওই এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।প্রতিবেদন অনুযায়ী, এতটাই জরুরি ছিল পরিস্থিতি যে ইয়াইর নিজের কিছু জিনিসপত্রও ফ্লোরিডায় রেখে ইসরায়েলে ফিরে আসতে বাধ্য হন। বর্তমানে তিনি ইসরায়েলেই অবস্থান করছেন।
ইয়াইরকে হত্যার কথিত চক্রান্তের খবর এমন সময় প্রকাশ্যে এলো, যখন প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু চলতি সপ্তাহের শুরুতে জানিয়েছিলেন, ইরান তার এক সন্তানকে হত্যার চেষ্টা করেছিল। তবে ওই হামলার লক্ষ্য ইয়াইর নাকি তার ছোট ছেলে আভনার তা স্পষ্ট করেননি তিনি।
নিজের পরিবারের সদস্যদের ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার সমালোচনার জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, পরিবারের জন্য এই নিরাপত্তা কোনো বিলাসিতা নয়। কারণ, পর্যাপ্ত সুরক্ষা না থাকলে তারা সফল হতে পারে।জুলাইয়ে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেট নেতানিয়াহুর স্ত্রী সারা এবং দুই ছেলে ইয়াইর ও আভনারের সরাসরি নিরাপত্তা আরও পাঁচ বছরের জন্য বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। নেতানিয়াহু প্রধানমন্ত্রী পদ ছাড়ার পরও তারা এই নিরাপত্তা পাবেন বলে ওই ব্যবস্থায় উল্লেখ করা হয়েছে।
নেতানিয়াহুর পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্য করে এই হত্যাচেষ্টার পরিকল্পনা ইরানের পক্ষ থেকে বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের স্বজনদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান হুমকির অভিযোগের মধ্যেই সামনে এলো।এর আগে চলতি সপ্তাহে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ বছর বয়সী ছেলে ব্যারন ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে একটি ভিডিও প্রচার করা হয়। ভিডিওটির শিরোনাম ছিল, ব্যারন ট্রাম্পকে কোথায় এবং কীভাবে হত্যা করা উচিত?
ভিডিওতে আরও দাবি করা হয়, ব্যারন ট্রাম্পকে হত্যার জন্য ১ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস জানিয়েছে, তারা ভিডিওটির বিষয়ে অবগত এবং এ ধরনের হুমকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।
সূত্র : ওয়াইনেট ও টাইমস অব ইসরায়েল