মুলাদী প্রতিনিধি |বরিশালের মুলাদী উপজেলায় ফসলি জমি ও ভিটেমাটি থেকে অবৈধভাবে মাটি ও বালু কেটে নেওয়ার অভিযোগে প্রভাবশালী ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন এলাকাবাসী। দীর্ঘদিন ধরে চলা এ কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবিতে শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার মুলাদী ইউনিয়নের পাতারচর গ্রামের আড়িয়াল খাঁ নদের তীরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন শতাধিক এলাকাবাসী।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, বড় পাতারচর, ছোট পাতারচর ও উত্তর গলইভাঙ্গা মৌজার বিস্তীর্ণ এলাকায় ড্রেজার ও পন্টুন বসিয়ে জোরপূর্বক কৃষকের ফসলি জমি ও ভিটেমাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। গত দুই বছর ধরে একটি চক্র প্রকাশ্যে এ অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় দিন দিন কৃষিজমি বিলীন হচ্ছে এবং নদীভাঙনের ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে।
ভুক্তভোগী আনছার হাওলাদার বলেন, “মাটি কাটা বন্ধ করতে গেলে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। এমনকি প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে।”
তিনি এ ঘটনায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের অনুলিপি স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছেও পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগে পাতারচর গ্রামের মো. জাকির হাওলাদার, মো. রাকিব হোসেন হাওলাদার, রুহুল আমিন কাজী, বাবুল কাজী, মো. লাকু কাজী ও মো. ইউনুস কাজীসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “ফসলি জমি ধ্বংস করে কোনো উন্নয়ন হতে পারে না। কৃষকের জমি রক্ষা এবং অবৈধ মাটি কাটা বন্ধে দ্রুত প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ চাই। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
এ বিষয়ে মুলাদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. গোলাম সরওয়ার বলেন, “ফসলি জমি থেকে মাটি কাটা সম্পূর্ণ অবৈধ। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান চলমান রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”