স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বকাপজুড়ে রেফারিং ও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) নিয়ে চলমান বিতর্কের পর বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে ফিফা। টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে প্রতিটি ম্যাচে স্টেডিয়ামের ভেতরে একজন রিজার্ভ ভিএআর কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। ডালাসের কেন্দ্রীয় ভিএআর হাবের সঙ্গে প্রযুক্তিগত কোনো সমস্যা দেখা দিলে, মাঠে থাকা এই কর্মকর্তা তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
এবারের বিশ্বকাপে ভিএআর প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। গোল, পেনাল্টি ও সরাসরি লাল কার্ডের পাশাপাশি এখন ভুল কর্নার, ভুল ফ্রি-কিক, দ্বিতীয় হলুদ কার্ড থেকে লাল কার্ড, ভুল খেলোয়াড়কে শাস্তি দেওয়া এবং বল পুনরায় খেলায় আসার আগে আক্রমণভাগের ফাউলের ঘটনাও ভিএআরের মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হবে।
খেলার গতি বাড়াতে ফিফা নতুন কয়েকটি নিয়মও কার্যকর করেছে। বদলি হওয়া খেলোয়াড়কে ১০ সেকেন্ডের মধ্যে মাঠ ছাড়তে হবে। তা না হলে পরবর্তী খেলা বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত বদলি খেলোয়াড় মাঠে নামতে পারবেন না এবং দলকে ওই সময় ১০ জন নিয়ে খেলতে হবে।
এছাড়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে থ্রো-ইন না নিলে প্রতিপক্ষ থ্রো-ইনের সুযোগ পাবে। গোল কিক নিতে বিলম্ব করলে প্রতিপক্ষ কর্নার পাবে। মাঠের বাইরে চিকিৎসা নেওয়া খেলোয়াড়কে অন্তত এক মিনিট বাইরে থাকতে হবে এবং ওই সময় দল একজন কম নিয়ে খেলবে।
ফিফা আরও জানিয়েছে, সংঘর্ষ বা বিতর্কের সময় অসদাচরণ, রেফারির সঙ্গে আপত্তিকর আচরণ কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে মাঠ ত্যাগ করলে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হতে পারে। কোনো দল ইচ্ছাকৃতভাবে মাঠ ছেড়ে ম্যাচ পরিত্যাগ করলে তাদের পরাজিত ঘোষণা করা হবে।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর পর থেকে ভিএআর ও রেফারিং নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়, বিশেষ করে আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচ এবং ইংল্যান্ডের এক খেলোয়াড়ের লাল কার্ডের ঘটনা ঘিরে। তবে ফিফার রেফারিং প্রধান পিয়েরলুইজি কলিনা এসব অভিযোগ নাকচ করে বলেছেন, ফিফার ম্যাচ কর্মকর্তারা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করেন। তাদের সততা নিয়ে ভিত্তিহীন অভিযোগ শুধু কর্মকর্তাদেরই নয়, তাদের পরিবারের নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকির কারণ হতে পারে।