বন্ধুজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতিকে ঘিরে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ, সাবেক সভাপতির বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের দাবি
মোঃ শরিফুল হোসেন, দৌলতপুর প্রতিনিধি:দৌলতপুরের বন্ধুজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডকে কেন্দ্র করে গভীর ষড়যন্ত্র ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। সমিতির সাবেক সভাপতি মোঃ আব্দুর রহিম শিকদারের বিরুদ্ধে দায়িত্ব হস্তান্তরের পরও প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ, স্টাফদের প্রভাবিত করা, অপপ্রচার চালানো এবং বর্তমান কর্তৃপক্ষকে বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ করেছেন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ও একক মালিক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন।
সমিতি সূত্রে জানা যায়, উভয় পক্ষের মধ্যে সম্পাদিত লিখিত সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে সাবেক সভাপতি তার সকল আর্থিক দাবি নিষ্পত্তি করে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। চুক্তি অনুযায়ী তিনি ভবিষ্যতে সমিতির কোনো সম্পদ, ব্যবস্থাপনা বা কার্যক্রমে দাবি কিংবা হস্তক্ষেপ করবেন না বলে অঙ্গীকার করেন। পরবর্তীতে সমিতির সকল সম্পদ, দায়-দায়িত্ব এবং প্রশাসনিক ক্ষমতা বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, চুক্তির শর্ত উপেক্ষা করে সাবেক সভাপতি সমিতির কয়েকজন কর্মচারীকে আর্থিক প্রলোভন ও বিভিন্ন সুবিধার আশ্বাস দিয়ে বর্তমান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে উৎসাহিত করছেন। একই সঙ্গে একটি স্বার্থান্বেষী মহলের সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের অর্জিত সুনাম, বিশ্বাসযোগ্যতা ও স্থিতিশীল কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, একটি মহল তাকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা, ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত করা এবং সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন সময়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন, জীবননাশের হুমকি এবং প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
তিনি আরও জানান, এসব ঘটনার ভিডিও ফুটেজ, অডিও রেকর্ড, মোবাইল কলের তথ্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে, যা প্রয়োজন হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
সমিতির একাধিক সদস্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, বিষয়টি কেবল ব্যক্তিগত বিরোধ নয়; বরং একটি চলমান প্রতিষ্ঠানকে অস্থিতিশীল ও ক্ষতিগ্রস্ত করার প্রচেষ্টার অংশ হতে পারে। এতে সদস্য ও আমানতকারীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এদিকে বর্তমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সমিতির স্বার্থবিরোধী যেকোনো ষড়যন্ত্র, অপপ্রচার, ভয়ভীতি প্রদর্শন, চাঁদাবাজি কিংবা বেআইনি কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগও করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
একই সঙ্গে সদস্য, আমানতকারী ও শুভানুধ্যায়ীদের গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের ওপর নির্ভর না করে প্রকৃত তথ্য যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছে সমিতির বর্তমান কর্তৃপক্ষ।
(প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগসমূহ অভিযোগকারী পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশ করা হয়েছে। অভিযুক্ত পক্ষের