রংপুর অফিস। রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলা উপজেলার হলদিবাড়ি এলাকায় মৌশিক সংগঠনের জেলা সেক্রেটারি পীরগঞ্জ উপজেলা ওলামা লীগের এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ইসলামিক ফাউন্ডেশন শিক্ষক, এসএম সাকিলের বাবা মোহাম্মদ রেজাউল মন্ডল নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চুরি, প্রতারণা, দালালি ও জালিয়াতির নানা অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। সম্প্রতি কলা চুরির ঘটনায় তাকে হাতেনাতে আটক করার পর এলাকায় নতুন করে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হলদিবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ রেজাউল মন্ডল দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সাধারণ মানুষের হাঁস-মুরগি, গরু, মোটর, অটোরিকশার ব্যাটারি, কলা, পটলসহ বিভিন্ন সবজি ও কৃষিপণ্য চুরির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, এসব ঘটনায় তারা দীর্ঘদিন ধরে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাত আনুমানিক ২টার দিকে হলদিবাড়ি বাজারের পেছনে স্থানীয় পশু চিকিৎসক আবু বক্কর সিদ্দিকের কলা বাগান থেকে কয়েকটি কলা ও কলাগাছ কাটার সময় এলাকাবাসী তাকে হাতেনাতে আটক করে। পরে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। এসময় দায়িত্বপ্রাপ্ত এক এসআই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তবে স্থানীয়দের সিদ্ধান্তে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে থানায় সোপর্দ না করে তার পরিবারের সদস্যদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
এদিকে এলাকাবাসীর একাংশের অভিযোগ, রেজাউল মন্ডল ও তার ছেলে অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের দালালি ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। স্থানীয়দের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন একটি রাজনৈতিক বলয়ের সঙ্গে সক্রিয় ছিলেন এবং পরে বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন।
মৌশিক সংগঠনের জেলা সেক্রেটারি পীরগঞ্জ উপজেলা ওলামা লীগের এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ইসলামিক ফাউন্ডেশন শিক্ষক, এসএম সাকিলের বাবা মোহাম্মদ রেজাউল মন্ডলসহ তার বাবা ছেলের বিরুদ্ধে টিউবওয়েল দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়া, ঘর নির্মাণের আশ্বাস দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ, চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা, অজুখানা নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা সংগ্রহসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া মৌশিক সংগঠনের জেলা সেক্রেটারি পীরগঞ্জ উপজেলা ওলামা লীগের এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ইসলামিক ফাউন্ডেশন শিক্ষক, এসএম সাকিলে নামে থানায় দালালি, ভুয়া কাজীর স্বাক্ষর ব্যবহার, জাল এফিডেভিট তৈরি, নকল বিবাহ সম্পাদন এবং আদালতের সিল-স্বাক্ষর জালিয়াতির মতো গুরুতর অভিযোগও করেছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা।
স্থানীয় নাম প্রকাশ করতে অনিশ্চিত একব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, “প্রশাসনের কাছে বিষয়গুলো একাধিকবার জানানো হয়েছিল। তাকে থানায় কোনো ধরনের দালালি করতে না দেওয়ার জন্যও মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু এরপরও সে বিভিন্নভাবে প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।”আরও অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি বিএনপির বিভিন্ন মহলের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে আবারও এলাকায় প্রভাব বিস্তার শুরু করেছেন। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বাড়ছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
তবে অভিযুক্ত মোহাম্মদ রেজাউল মন্ডলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসী দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।