একুশে ফেব্রুয়ারী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। সারা বিশ্বে একযোগে গুরুত্বের সাথে দিবসটি প্রতিপালিত হচ্ছে। বাংলা ভাষাভাষী প্রতিটি নাগরিক এই দিবসটির জন্য বিশেষভাবে গর্বিত। বিভিন্ন ভাষাভাষী সকল জাতিগোষ্ঠীর মানসপটে দিবসটি এক অহংকার। এ দিবসটি পালনের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর “মাতৃভাষার গুরুত্ব ও অস্তিত্বের প্রয়োজনীয়তা অনুভব, সংরক্ষণ, পরিপুষ্টি, সচেতনতা ও যুগোপযোগী করণ” বিষয়ে জনগণের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করা।
পৃথিবীতে প্রায় ছয় হাজারের মতো ভাষা আছে। আগামী একুশ বছরের মধ্যে প্রায় তিন হাজারের মতো ভাষা বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে-ভাষাতত্ত্ববিদরা আশংকা করছেন। পৃথিবীব্যাপী ভাষা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের ক্ষেত্রে এ এক অশনী সংকেত। ভূ-মন্ডলের ভাষা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ধরে রাখার জন্য বিশ্ববাসীকে এগিয়ে আসতে হবে।
জাতিগত সংঘাত, আঞ্চলিক সংঘাত, গোত্রদ্বন্দ্ব, সাংস্কৃতিক বৈষম্য ও সংঘাত নিরসনের অপরাপর ভাষা ও সাংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও সহনশীলতা অর্জনে ব্যাপক অনুশীলন প্রয়োজন। বিভিন্ন জাতির মধ্যে ভাষা ও সাংস্কৃতির আদান-প্রদান পারস্পিরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহনশীলতা অনুশীলনে এবং বিলুপ্তপ্রায় ভাষা সংরক্ষণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
ভাষা বৈচিত্র্যের মাঝেই ভাষা স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখা সম্ভব। আসুন আমরা সবাই প্রতিপাদ্য বিষয়ের চেতনাকে সবার মাঝ ছড়িয়ে দেই, যাতে এর মাহাত্ম্যা বাস্তব রূপ লাভ করে।
সালাম, রফিক, জাব্বার সহ সকল ভাষা শহীদদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সকল বাংলা ভাষাভাষীকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা
মোঃ শাহাদাত হোসেন মাসুদ, জেলা প্রশাসক চাঁপাইনবাবগঞ্জ।