স্বেচ্ছায় সেনাবাহিনীর ইউনিফর্মকে বিদায় জানালেন এক স্বপ্নবাজ সেনাসদস্য
আর জে রবিউল ইসলাম ফরাজী, বিশেষ প্রতিবেদন।।দীর্ঘ প্রায় ১৩ বছরের কর্মজীবনের ইতি টেনে স্বেচ্ছায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন এক সাবেক সেনাসদস্য স্বপ্নবাস। ২০১২ সালের ৮ জুলাই সেনাবাহিনীতে যোগদান করে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন শেষে তিনি সম্মান ও গর্বের সঙ্গে সেনাবাহিনীর ইউনিফর্মকে বিদায় জানান।
নিজের এই সিদ্ধান্তের কথা তিনি জানিয়েছেন ব্যক্তিগত ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া একটি আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে। সেখানে তিনি সেনাবাহিনীতে কাটানো সময়ের অভিজ্ঞতা, অনুভূতি এবং ভবিষ্যৎ জীবনের লক্ষ্য ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, দীর্ঘ কর্মজীবনে কখনোই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইউনিফর্ম পরিহিত কোনো ছবি প্রকাশ না করলেও অবসর উপলক্ষে প্রথম ও শেষবারের মতো ইউনিফর্ম পরা একটি ছবি তিনি ফেসবুকে শেয়ার করেন। এতে অনেক অনুসারী প্রথমবারের মতো জানতে পারেন যে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন সদস্য ছিলেন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলাই এই বাহিনীর শক্তি ও মর্যাদার মূল ভিত্তি। এই শৃঙ্খলার কারণেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের অন্যতম সুশৃঙ্খল ও সম্মানিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত এবং যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলায় সক্ষম। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে দেশের গৌরব ও অহংকার হিসেবে অভিহিত করেন।
চাকরি ছাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি লেখেন, নিয়মিত বেতন, রেশন সুবিধা, বিনামূল্যের চিকিৎসাসহ নানা সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও ব্যক্তিস্বাধীনতা, পরিবারকে সময় দেওয়া এবং নিজের পছন্দের কাজে স্বাধীনভাবে যুক্ত হওয়ার ইচ্ছাই তাকে এই সিদ্ধান্ত নিতে উদ্বুদ্ধ করেছে। পরিবার ও সামাজিক জীবনে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত থাকার আকাঙ্ক্ষার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
তিনি আরও জানান, অধিক আয়ের পরিবর্তে সীমিত কিন্তু সম্মানজনক উপার্জন, ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় গড়ে তোলা এবং অন্যদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাই তার নতুন জীবনের প্রধান লক্ষ্য। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ এবং ভেদাভেদহীন জীবনযাপনের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
সেনাবাহিনীতে কাটানো অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে স্বপ্নবাস বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তাকে শৃঙ্খলা, সম্মান, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতার প্রকৃত শিক্ষা দিয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের প্রতি তিনি আজীবন কৃতজ্ঞ থাকবেন বলেও জানান।
পোস্টে তিনি আরও বলেন, তার জায়গায় নতুন কোনো তরুণ ইউনিফর্ম গায়ে জড়িয়ে দেশ সেবার সুযোগ পাবেন—এটাই তার কাছে সবচেয়ে বড় তৃপ্তির বিষয়। অবসর-পরবর্তী জীবনে তিনি পরিবারকে সময় দেওয়া এবং নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়নে মনোযোগী হওয়ার কথা জানান।
সবশেষে তিনি সবার কাছে দোয়া কামনা করেন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানাবেন বলে তার ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন।