১২ বছর ধরে শিকলবন্দী প্রেমে ব্যর্থ বাবুগঞ্জের মামুন : পরিবারের সহযোগিতা কামনা
মোঃ রফিকুল ইসলাম, বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি :বলিউডের জনপ্রিয় সিনেমা তেরে নাম-এর কাহিনীকেও হার মানিয়েছে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার এক তরুণের বাস্তব প্রেম কাহিনী। দীর্ঘ ১২ বছর ধরে শিকলবন্দী জীবন কাটাচ্ছেন প্রেমে ব্যর্থ সাইদুল ইসলাম মামুন।
চাঁদপাশা ইউনিয়নের আইচার হাওলা গ্রামের দিনমজুর মোসলেম বেপারী ও গৃহিণী সোনাবান বেগমের একমাত্র ছেলে মামুন ছিলেন একসময় মেধাবী ও স্বপ্নবাজ ছাত্র। বাবুগঞ্জ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থী থাকাকালীন সময়ে তাঁর সহপাঠী মৌরির (ছদ্মনাম) সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
কিন্তু প্রেমের সম্পর্কের কথা জানাজানি হলে মেয়ের পরিবার মামুনের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং জোরপূর্বক মেয়েটির সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এই মানসিক আঘাত সহ্য করতে না পেরে ধীরে ধীরে মামুনের মানসিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। একসময় অসুস্থ মামুন রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াতে থাকেন। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা বাধ্য হয়ে তাঁকে শিকলবন্দী করে রাখেন।
গত ১২ বছর ধরে পায়ে শিকল ও তালা পরিয়ে ঘরে বন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন মামুন।
সম্প্রতি স্থানীয় সাংবাদিকরা মামুনের খোঁজ নিতে গেলে তাঁর মা সোনাবান বেগম বলেন,
আমার একমাত্র ছেলেকে ভালো করার জন্য এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে চিকিৎসা করাতে নিয়ে যাইনি। স্বামী দিনমজুর, তার জমিজমা বিক্রি করে এতদিন চিকিৎসা করিয়েছি। এক দালালের মাধ্যমে পাবনা পাঠাই, কিন্তু সেখানেও প্রতারণার শিকার হই। মানসিক হাসপাতালে ভর্তি না করে একটি ক্লিনিকে ফেলে রেখে আমাদের কাছ থেকে ২১ হাজার টাকা নিয়ে যায়।
চোখে অশ্রু নিয়ে তিনি আরও বলেন,
এখন আমাদের ভাঙা ঘর ছাড়া কিছুই নেই। আমার ছেলেটার চিকিৎসার জন্য সরকার ও সমাজের বৃত্তবানদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানাই।
এ বিষয়ে বাবুগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন,
বিষয়টি শুনেছি এবং তার অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলেছি। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সহযোগিতা করার সুযোগ থাকলে আমরা নিশ্চয়ই তার পাশে দাঁড়াবো।
প্রেমে ব্যর্থ হয়ে মানসিক ভারসাম্য হারান বাবুগঞ্জের মামুন।১২ বছর ধরে শিকলবন্দী অবস্থায় জীবন কাটাচ্ছেন।
অসহায় মা সরকারি ও সমাজের সহায়তা কামনা করছেন।