শিক্ষক, প্রশাসন, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের যৌথ আহ্বান—সচেতন পরিবারই পারে অপরাধ রোধ করতে
নিজস্ব প্রতিবেদক:বরিশাল জেলার মুলাদী উপজেলার গাছুয়া ইউনিয়নের পদ্মার হাট বাজারে ইসলামাবাদ নেছারিয়া ফাযিল মাদ্রাসার উদ্যোগে আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় ইভটিজিং মাদক ও কিশোর অপরাধ রোধে করণীয় শীর্ষক এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সৈয়দেরগাঁও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন এবং সঞ্চালনায় ছিলেন ইসলামাবাদ নেছারিয়া ফাযিল মাদ্রাসার বাংলা প্রভাষক মো. দিদারুল আহসান।
প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নিজাম উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম এবং উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো. মোস্তাফিজুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইসলামাবাদ নেছারিয়া ফাযিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. ইয়াছিন মুনির।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এস এম জাহিদ হাসান, মাস্টার আবুল হাশেম, সৈয়দেরগাঁও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আলী আকবর, চরডুমুরতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাহিদ হোসেন, চরগাছুয়া পদ্মারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শাহ আলমসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, স্কুল ও মাদ্রাসার শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী এবং অভিভাবকবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নিজাম উদ্দিন বলেন,
“ইভটিজিং, মাদক ও কিশোর অপরাধ—এগুলো সামাজিক সমস্যা। এগুলো আপনার-আমার সন্তানরাই করে থাকে। তাই ছোটবেলা থেকেই সন্তানকে সময় দিতে হবে। তারা কার সঙ্গে মিশছে, সন্ধ্যার পর কোথায় যাচ্ছে—এগুলোর খোঁজ রাখতে হবে। বাবা-মা হবেন সন্তানের প্রথম ও প্রিয় বন্ধু। সন্তানকে আদর করে মোবাইল নয়, বই কিনে দিন; সময় দিন; ভ্রমণে নিয়ে যান।
তিনি আরও বলেন,
“সমাজে ভালো মানুষের সংখ্যা বেশি, অপরাধীর সংখ্যা কম। কিন্তু আমরা ভালো মানুষরা অপরাধীদের প্রশ্রয় দেই বলেই তারা অপরাধ করার সুযোগ পায়। তাই সামাজিক অপরাধ রোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
সভায় বক্তারা অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান—সন্তানদের সঠিক দিকনির্দেশনা, নৈতিক শিক্ষা ও ভালো পরিবেশ দিতে হবে। বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভা শেষে অংশগ্রহণকারীরা শপথ নেন—নিজেরা অপরাধে জড়াবেন না, অন্যকেও জড়াতে দেবেন না এবং সামাজিক অপরাধ রোধে সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন। এছাড়া মাদক ও ইভটিজিং বিরোধী পোস্টার বিতরণ করা হয় এবং স্থানীয় দোকানদারদের অপরাধ প্রতিরোধে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়।