মুলাদীতে নববধূ অপহরণ ও ১৮ দিন আটকে রেখে ধর্ষণ: থানায় মামলা, পলাতক অভিযুক্তরা
স্টাফ রিপোর্টার, মুলাদী (বরিশাল):বরিশালের মুলাদী উপজেলায় চরম নির্মম এক ঘটনার জন্ম দিয়েছে প্রেমে প্রত্যাখ্যাত এক যুবক। অভিযোগ উঠেছে, এক নববধূকে অপহরণ করে দীর্ঘ ১৮ দিন ধরে আটকে রেখে ধর্ষণ করেছে অভিযুক্ত যুবক। পরে পুলিশের অভিযানে নববধূকে উদ্ধার করা হলেও অভিযুক্তসহ তাঁর পরিবারের সদস্যরা ঘটনার পরপরই পালিয়ে গেছেন।
থানায় দায়ের করা মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মুলাদী উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের চরমালিয়া গ্রামের করিম সরদারের ছেলে শরীফ হোসেন দীর্ঘদিন ধরে একই এলাকার এক তরুণীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। তরুণী তাঁর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় শরীফ ক্ষুব্ধ হন এবং নানা সময় উত্ত্যক্ত করতেন। নিরাপত্তার কথা ভেবে মেয়ের সম্মতিতে গত ১০ জুন পরিবার তাকে বিয়ে দেয়।
কিন্তু তাতেও থেমে থাকেননি শরীফ। নববিবাহিত মেয়েটিকে তিনি নিয়মিত কুপ্রস্তাব দিয়ে যাচ্ছিলেন বলে জানান মেয়েটির মা। ঘটনার সূত্রপাত ঘটে ১৩ জুলাই বিকেলে, যখন নববধূ চরকালেখান মাদ্রাসা বাজার এলাকা থেকে বাড়ি ফেরার পথে শরীফ ও তাঁর সহযোগীরা নববধূকে জোর করে তুলে অপহরণ করে নিয়ে যান।
অপহরণের সময় নববধূর সঙ্গে থাকা নগদ ২০ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর শরীফ নববধূকে তাঁদের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে জোরপূর্বক বিয়ের চেষ্টা করেন। নববধূ তাতে রাজি না হলে শরীফ পরবর্তী ১৮ দিন ধরে তাঁকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন।
এ ঘটনায় অপহরণকারীরা একটি সাজানো বিয়ের ভিডিওচিত্র তৈরি করে তা স্থানীয় এক যুবকের কাছে পাঠায়। ভিডিও দেখে তিনি বিষয়টি নববধূর পরিবারকে জানান। এরপরই পুরো ঘটনা সামনে আসে।
১৪ জুলাই নববধূর মা বাদী হয়ে মুলাদী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় শরীফ হোসেন ছাড়াও তাঁর বাবা করিম সরদার, মা মেলেনী বেগম, ভাই আরিফ সরদারসহ মোট আটজনকে আসামি করা হয়।
অভিযোগের ভিত্তিতে মুলাদী থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মনির হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) বিকেলে সফিপুর ইউনিয়নের চরমালিয়া এলাকা থেকে নববধূকে উদ্ধার করে। তবে অভিযুক্ত শরীফ হোসেন, তাঁর বাবা-মা ও অন্যান্য সহযোগীরা পালিয়ে যায়।
মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী নববধূকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁর প্রাথমিক জবানবন্দি গ্রহণ শেষে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি ঘটনার সম্পূর্ণ তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে।
এই ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।