মুলাদীতে চাঁদাবাজির অভিযোগে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়কসহ ৮ নেতার বিরুদ্ধে প্রজন্ম লীগ নেতার মামলা
নিজস্ব প্রতিবেদক, মুলাদী বরিশাল::বরিশালের মুলাদী উপজেলায় রাজনৈতিক উত্তেজনার নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. শরীয়ত উল্লাহসহ আট নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন কেন্দ্রীয় প্রজন্ম লীগের সহ-অর্থবিষয়ক সম্পাদক মো. জয়নাল আবেদীন। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবিসহ প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলাটি দায়ের করা হয় গত ১৪ জুলাই (২০২৫) বরিশাল জ্যেষ্ঠ বিচারিক আদালতে। বাদী জয়নাল আবেদীন চরকালেখান ইউনিয়নের ষোলঘর গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত মন্নান ব্যাপারীর ছেলে।
চাঁদা দাবি ও হুমকির অভিযোগ
জয়নাল আবেদীন অভিযোগ করেন, ঢাকায় রেন্ট-এ-কার ব্যবসার কথা বলে তাঁর প্রতিবেশী লালচান মাতুব্বর তাঁর কাছ থেকে দেড় বছর আগে ৬০ লাখ টাকা ধার নিয়েছিলেন। অনেকবার চেষ্টা করেও টাকা ফেরত না পাওয়ায় তিনি সেটি আদায়ের উদ্যোগ নেন। এই সুযোগে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা তার ওপর চাঁদা আদায়ের চাপ সৃষ্টি করেন।
২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মালেক সরদার তাকে বাসায় ডেকে নিয়ে যান। সেখানে বিএনপির অন্যান্য নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। তারা লালচানের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণসহ ১ কোটি টাকা আদায়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে জয়নালের কাছে ৫০ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
জয়নালের দাবি, এসব নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক শরীয়ত উল্লাহ তা আটকে দেন। ফলে বাধ্য হয়ে তিনি আইনের আশ্রয় নেন।
আদালতের সিদ্ধান্ত
বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. হেমায়েত উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, “মাননীয় আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে বিষয়টির বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। বিষয়টি এখন তদন্তাধীন।
বিএনপির পাল্টা অভিযোগ: ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা’
অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. শরীয়ত উল্লাহ বলেন, জয়নাল আবেদীন একজন আওয়ামী লীগ ঘরানার নেতা। তার সঙ্গে স্থানীয় বিএনপি কর্মীদের জমি নিয়ে পারিবারিক বিরোধ রয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় থেকে তিনি বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন।
তিনি আরও বলেন, এই মামলার আসামিদের মধ্যে একজন হচ্ছেন ছাত্রলীগের চরকালেখান কলেজ শাখার বহিষ্কৃত নেতা মো. তারেক হোসেন, যিনি বর্তমানে নিষিদ্ধ ঘোষিত। তাকে বিএনপি নেতাকর্মী হিসেবে চালিয়ে দেওয়া হয়েছে। এসবই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার।
লালচানের প্রতিক্রিয়া: আমি দোকানি, রেন্ট-এ-কার করি না
এ বিষয়ে অভিযুক্ত লালচান মাতুব্বর বলেন, “আমি চরকালেখান ডাক্তার বাজারে একটি ছোট দোকান চালাই। রেন্ট-এ-কার ব্যবসা করি না। জয়নাল আমার বিরুদ্ধে ভুয়া স্ট্যাম্প তৈরি করে আগেও মামলা করেছিলেন। জমি সংক্রান্ত পুরনো বিরোধের জেরে এখন আবার হয়রানিমূলক মামলা করছেন।
আন্দোলনের মুখে স্থানীয় রাজনীতি
স্থানীয় পর্যায়ে এই মামলা নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। দুই পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মামলা ও হয়রানির অভিযোগ তুলেছে। এতে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে উঠছে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।
এ মামলাকে কেন্দ্র করে মুলাদীতে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয়। তবে পরিস্থিতি যাতে আইন হাতে তুলে নেওয়ার মতো জায়গায় না পৌঁছে, সে বিষয়ে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে।