ফোনালাপ ভাইরাল: ২০ হাজার টাকায় ড্রেজার চালানোর ‘ডিল’, বাধা দিলে লাঞ্ছনার হুমকি!
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি::গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় সম্প্রতি ভয়ঙ্কর এক অডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়েছে। যেখানে সাংবাদিক পরিচয়ধারী এক ব্যক্তি—নিজেকে সাংবাদিক ইয়াসিন পরিচয় দিয়ে—ইউনিয়ন ভূমি অফিসারকে প্রকাশ্য হুমকি দিচ্ছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তুই বেশি বাড় বেড়াস, তোকে দেখে নিব!
এই কল রেকর্ডটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই এলাকাজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সবার প্রশ্ন—একজন সাংবাদিক হয়ে কিভাবে তিনি সরকারি কর্মকর্তাকে এইভাবে হুমকি দিতে পারেন?
২০ হাজার টাকায় ড্রেজার চালানোর ডিল—অডিওতে স্পষ্ট দাবি ইয়াসিনের
রেকর্ডিংয়ে শোনা যায়, ইয়াসিন নামের এই ব্যক্তি বলেন—
তুই আমার কথায় চল না, দেখিস বিপদে পড়বি।
আমি বলছি, ২০ হাজার টাকায় সব হয়ে যাবে—ড্রেজার চালাস, কেউ কিছু বলতে পারবে না।
তুই বাঁধা দিস ক্যান?
অডিও ক্লিপটি ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে। এই ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এনেছে সাংবাদিকতার নামে ভয়ভীতি দেখানো, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং প্রশাসনকে প্রভাবিত করার অপচেষ্টা।
যিনি এই অপকর্মের নায়ক—পরিচয় প্রকাশ্যে!
অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম ইয়াসিন খান,
পিতা: সিরাজ খান,
গ্রাম: কাঠাম দরবস্ত, কাশিয়ানী।
তিনি নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে দৈনিক বর্তমান বাংলা, দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রা, এবং টুঙ্গিপাড়া নিউজ পত্রিকার সাইনবোর্ড বহন করে ঘুরে বেড়ান এবং দীর্ঘদিন ধরে এসব পরিচয়ে বিভিন্ন অপকর্ম করে চলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সাহসী ভূমি অফিসার বললেন—’আইনের উর্ধ্বে কেউ নয়’
ঘটনার বিষয়ে ইউনিয়ন ভূমি অফিসার বলেন—
আমি দায়িত্ব পালন করেছি। কেউ সাংবাদিকতার পরিচয়ে অপরাধ করলে তা সাংবাদিকতা নয়, বরং সমাজবিরোধী কাজ। আমি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি।
সাংবাদিকতা না চাঁদাবাজি?
এলাকাবাসীর দাবি, ইয়াসিন প্রকৃত সাংবাদিক নন। বরং তিনি বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডে লবিং, চাঁদাবাজি এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রভাব বিস্তার করেন। আগে থেকেই তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ছিল। এবার অডিও রেকর্ডে তিনি নিজেই নিজেকে ফাঁস করে দিয়েছেন।
সুশীল সমাজের প্রশ্ন—এই ‘হলুদ সাংবাদিক’দের লাগাম টানবে কে?
এলাকার সুশীল সমাজ, শিক্ষক, প্রকৃত সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী এবং পরিবেশসচেতন জনগণের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ভাইরাল হওয়া অডিও শুনে ক্ষুব্ধ অনেকে বলেন—
সাংবাদিকতা পবিত্র পেশা। সত্যের পক্ষে লড়াই করার জায়গা।
ইয়াসিনদের মতো কিছু হলুদ সাংবাদিক এই পেশাকে কলঙ্কিত করছে।
তারা শুধু সমাজ নয়, রাষ্ট্রকেও বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
এখনই প্রশাসনের উচিত এদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেওয়া।
দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে এরকম ঘটনা একের পর এক ঘটতেই থাকবে।
এই প্রতিবাদ শুধু একজন ভূমি কর্মকর্তার নয়—এটা গোটা সমাজের নিরাপত্তার লড়াই’
সাধারণ মানুষের বক্তব্য—এই ঘটনাটি শুধু একজন সরকারি কর্মকর্তাকে হুমকি দেওয়ার মামলা নয়। এটা প্রশাসন, ন্যায়বিচার ও সৎ সাংবাদিকতার অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্ন। ইয়াসিনের মতো লোকদের বিচারের মুখোমুখি না করা হলে পুরো ব্যবস্থার ওপর থেকে বিশ্বাস উঠে যাবে।
সম্প্রতি একটি ঘটনা গোটা দেশকে নাড়া দিয়েছে
একটি ভাইরাল অডিও, একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান, এবং একজন সাহসী সরকারি কর্মকর্তার নির্ভীক ভূমিকা আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে—
👉 সাংবাদিকতা না চাঁদাবাজি—এই ভণ্ডদের চেহারা উন্মোচন করবে কে?
👉 ইয়াসিনদের মতো মানুষ কতদিন আর সাংবাদিকতার মুখোশ পরে সমাজকে ধ্বংস করবে?
এই প্রশ্নের উত্তর আমাদের সবাইকে খুঁজতে হবে—জনগণ, প্রশাসন ও প্রকৃত সাংবাদিক সমাজকে একসাথে নিয়ে।