ঐতিহ্যবাহী ফরাজি বাড়ির স্বচ্ছতা আর অংশগ্রহণে ঐক্য,কাচারি ঘর নির্মাণ অনলাইনে বাড়ির সদস্যদের মধ্যে পুকুর নিলামে নতুন ইতিহাস
আর.জে রবিউল ইসলাম ফরাজী প্রতিবেদন।। ঐতিহ্যবাহী জাগ্রত ফরাজি বাড়ির একটি কাচারি ঘরের ছাদ—এটা শুধু ইট-পাথরের নির্মাণ নয়, বরং পরিবার, ঐক্য এবং দায়িত্ববোধের এক প্রতীক হয়ে উঠতে চলেছে। এমনই এক হৃদয়স্পর্শী চিত্র ফুটে উঠেছে বরিশাল জেলার মুলাদী উপজেলার গাছুয়া ইউনিয়নের ফরাজি বাড়িতে।
ঐতিহ্যবাহী এই বাড়ির কাচারি ঘরটি পুরনো হয়ে পড়ায় এবং ব্যবহারে অনুপযোগী হওয়ায় বাড়ির সকলে ও “জাগ্রত ফরাজি”বাড়ির কমিটির সংশ্লিষ্ট সকলের উদ্যোগের সদস্যরা মিলে ঘরটি পুনঃনির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন। নির্মাণকাজে অর্থসংকট দেখা দিলে সমবেত সিদ্ধান্তে বাড়ির দুটি এজমালি পুকুর পাঁচ বছরের জন্য লীজ দেওয়ার উদ্যোগ নেয়।
এ সময় নানা বাড়ির স্মৃতিতে, মরহুম মাস্টার আবদুর রাজ্জাক ফরাজির বড় মেয়ের ঘরের বড় নাতনি সিফাত আলম লিয়ানা, যিনি ঘর নির্মাণে সহযোগিতা হিসেবে ১০,০০০ টাকা অনুদান প্রদান করেন।
প্রাথমিক উদ্যোগ ও মূল্য নির্ধারণ
সদস্যদের সম্মতিতে বড় পুকুরের মূল্য নির্ধারিত হয় ৭০,০০০ টাকা এবং ছোট পুকুরের মূল্য ৪০,০০০ টাকা। ১৪ জুন ২০২৫ খ্রিঃ, জনাব মোঃ জাহাঙ্গীর আলম ফরাজির সভাপতিত্বে বাড়ির উঠানে ম্যানুয়েল ডাক আয়োজন করা হয়, যেখানে অধিকাংশ সদস্য অংশগ্রহণ করেন।
তবে নির্ধারিত মূল্যে ডাক না ওঠায় জাগ্রত ফরাজি বাড়ির সদস্যদের ও তরুণদের উদ্দীপনায় অনলাইন ডাকের যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়—যা পরিবারে প্রযুক্তি ব্যবহারে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।
অনলাইন ডাক ও কমিটি গঠন
“জাগ্রত ফরাজি বাড়ি” নামক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে অনলাইন ডাকের আহ্বায়ক হিসেবে মনোনীত হন মোঃ সাজ্জাদুল কবির পাভেল এবং সদস্য সচিব হন মোঃ সাইফ উদ্দিন শিপার।
১৫ জুন থেকে শুরু হয়ে ডাক শেষ হয় ১৮ জুন রাত ১২টায়। নিয়ম অনুযায়ী ১৮ জুন রাত ১১টা পর্যন্ত ডাক চলে সাধারণ হারে, এরপর প্রতি ডাকে বড় পুকুরে ৫,০০০ টাকা এবং ছোট পুকুরে ৩,০০০ টাকা হারে মূল্য বৃদ্ধির নিয়ম চালু হয়।
ডাকের উত্তেজনা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা
ডাক চলাকালে ৩০ জনেরও বেশি সদস্য সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। অংশগ্রহণ করেন—রাফি, হৃদয়, স্বপন ফরাজি, মুন, মামুন, মনজুর ফরাজি প্রমুখ। উত্তেজনাপূর্ণ প্রতিযোগিতার শেষ লগ্নে বাজিমাত করেন মোঃ মামুন ফরাজি।
১৮ জুন রাত ১১:৫৮ মিনিটে তিনি বড় পুকুরে সর্বোচ্চ ৭৩,০০০ টাকা এবং ছোট পুকুরে ৪৭,০০০ টাকা ডাক দেন। সর্বমোট ১,২০,০০০ টাকায় দুটি পুকুরের লীজ পান তিনি। নিয়মমাফিক ১২টায় ডাক বন্ধ হয়ে যায় এবং কমিটি তাঁকে বিজয়ী ঘোষণা করে।
এই সময় অনলাইনে থেকে পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন— মোঃ জাহাঙ্গীর আলম ফরাজি, এটিএম এনামুল কবির স্বপন, মোঃ আবুল কালাম আজাদ, মোঃ শাহীন ফরাজি, নজমুল কবির রিপন, নাজমুল হাসান শান্ত, লাভলী আলম লিপা বেগম, আতাহার ফরাজি, সিলভি রুমানা, লুবনা, এহসানুল হক, পাপ্পু, বাপ্পী, আমির মাহমুদ ইশা, শিমুল ফরাজি, লিখন,ফরাজি, ও রোমান ফরাজি,মোঃ রাজীব বাঘা আর.জে রবিউল ইসলাম ফরাজীসহ আরও অনেকে।
লীজ হস্তান্তর ও আনুষ্ঠানিকতা
২৭ জুন ২০২৫ খ্রিঃ, নির্ধারিত অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে মামুন ফরাজির পক্ষে তাঁর পিতা মোঃ আজাহার ফরাজি, ডাক কমিটির কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পুকুর লীজ ডিড গ্রহণ করেন।
সমাপ্তি ও বার্তা
গাছুয়া ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী ফরাজি বাড়ি এর জাগ্রত ফরাজি বাড়ির কমিটির সংশ্লিষ্ট সকলের এই ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ একটি অনন্য দৃষ্টান্ত—যেখানে স্বচ্ছতা, গণতন্ত্র, প্রযুক্তির সদ্ব্যবহার ও পারিবারিক ঐক্যের প্রতিফলন দেখা যায়।
শুধু পুকুর লীজ নয়, কাচারি ঘর নির্মাণে বাড়ির সদস্যরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী এখন পর্যন্ত প্রায় চার লক্ষ টাকা অনুদান দিয়েছেন—যা এই উদ্যোগের প্রতি তাদের গভীর আন্তরিকতা ও দায়বদ্ধতার পরিচয় বহন করে।
এই প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য ও সহযোগিতার জন্য বিশেষ ধন্যবাদ— মোঃ আবুল কালাম আজাদ ফরাজী, সাধারণ সম্পাদক, জাগ্রত ফরাজি বাড়ির কমিটি।
🔸 এই ধরনের সম্মিলিত প্রয়াসেই গড়ে ওঠে একটি সচেতন, ঐক্যবদ্ধ ও দায়িত্বশীল সমাজ। ঐতিহ্যবাহী ফরাজি বাড়ির সকল সদস্যকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ।