আ*তঙ্কিত অভিভাবকরা চান সরকারের হ*স্তক্ষেপ
নিজস্ব প্রতিবেদন : রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলে শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও রেষারেষির মাঝে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশু শিক্ষার্থীরা। শিক্ষকরা তাদের ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব বা প্রতিযোগিতাকে নিয়ে আসছেন শ্রেণিকক্ষে, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীদের ওপর। এরই ধারাবাহিকতায় এবার এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে সহকর্মীকে ফাঁসাতে ভয়ভীতি দেখিয়ে ছাত্রদের দিয়ে মিথ্যা অভিযোগ লেখানোর অভিযোগ উঠেছে। যার জেরে তিন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে শ্রেণিকক্ষে অনুপস্থিত থাকে বেশ কিছুদিন। ভুক্তভোগী অভিভাবকরা বলছেন, এ ঘটনায় তারা প্রতিকার চেয়ে লিখিত অভিযোগ করলেও স্কুল কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি, উল্টো যে শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাকেই রক্ষার চেষ্টা চলছে।
জানা গেছে, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের মুগদা শাখায় এমন ঘটনা ঘটেছে। গত ১৩ মে স্কুল ছুটির পর ইসলাম শিক্ষার শিক্ষক শফিকুল ইসলাম খান সপ্তম শ্রেণির তিন ছাত্রকে একটি কক্ষে আটকে রেখে বাংলার শিক্ষক হাদিউজ্জামানের বিরুদ্ধে জোর করে লিখিত অভিযোগ আদায় করেন। এ ঘটনার পর আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে পড়ে ওই তিন শিক্ষার্থী, যাদের মধ্যে একজনের জ্বরের মাত্রা চড়ে ১০৩ ডিগ্রিতে। ঘটনার পর প্রথম কিছুদিন ভয়ে স্কুলে যায়নি ওই তিন শিশু শিক্ষার্থী। তারা এখনো মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরা। শিশু শিক্ষার্থীদের শিক্ষকদের ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বে জড়ানোর এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে অধ্যক্ষের কাছে অভিযোগ করেন অভিভাবকরা। কিন্তু এক মাস পেরিয়ে গেলেও প্রতিকার তো দূরের কথা, কোনো তদন্ত কমিটি পর্যন্ত করেনি স্কুল কর্তৃপক্ষ। এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের সন্তানদের নিরাপত্তা ও যথাযথ মানসিক বিকাশ নিয়ে আতঙ্কে আছেন অভিভাবকরা।তাদের অভিযোগ, যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষক শফিকুলের বিরুদ্ধে গত এপ্রিল মাসে মামলা করেন তারই এক নারী সহকর্মী। এ নিয়ে তৈরি একটি ভিডিও ক্লিপ শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। শফিকুলের ধারণা, ওই ভিডিও ক্লিপ তৈরির নেপথ্যে কিছু শিক্ষকের ইন্ধন রয়েছে। এমন ভাবনা থেকে হাদিউজ্জামানকে ফাঁসানোর পরিকল্পনা করেন তিনি এবং ছাত্রদের দিয়ে জোর করে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করান।
ভুক্তভোগী অভিভাবকদের একজন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে কর্মরত সাবিনা ইয়াসমীন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, স্কুল ছুটির পর শিক্ষক শফিকুল ইসলাম খান তার সন্তানকে ৪০৬ নম্বর রুম থেকে ৪০২ নম্বর রুমে ডেকে নেন। সেখানে আটকে রেখে জোর করে আরেক শিক্ষক হাদিউজ্জামানের বিরুদ্ধে নিজের হাতে লেখা একটি অভিযোগের কপি তার সন্তানকে দিয়ে জোর করে লেখানো হয়। সাবিনা ইয়াসমীন কালবেলাকে বলেন, ‘বাসায় ফিরে ছেলে ভয়ে কাঁপতে থাকার কারণ জানতে চাইলে একপর্যায়ে সে কাঁদতে কাঁদতে বলে, ‘শফিক স্যার জোর করে আমাকে দিয়ে হাদি স্যারের বিরুদ্ধে লিখিত নিয়েছেন। আমি লিখতে না চাইলে স্যার বললেন, ভয় নেই, কেউ জানবে না। হাদি স্যার জানবে না, তোমার আব্বা-আম্মাও জানবে না।’রিসিভ করেননি।
মুগদা শাখার সহকারী প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি তদন্তের জন্য মূল শাখা বা অধ্যক্ষের কাছ থেকে কোনো নির্দেশনা পাননি।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির অভিভাবক ঐক্য ফোরামের চেয়ারম্যান জিয়াউল কবির দুলু কালবেলাকে বলেন, ‘আইডিয়াল স্কুলে গাড়ির তেল সিন্ডিকেটসহ অ্যাডহক কমিটি আগের মতোই লুটপাট অব্যাহত রেখেছে। শুধু ব্যক্তি পরিবর্তন হয়েছে, সিস্টেমের বদল হয়নি। শিক্ষক দ্বারা ছাত্রীদের হয়রানি চলছে। প্রতিবাদ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অবৈধ খাত তৈরি করে শিক্ষক-কর্মচারীদের নামে উৎসাহ ভাতা দিয়ে স্কুল ফান্ডের প্রায় ২ কোটি টাকা গত কয়েক মাসে ভাগবাটোয়ারা করেছে বর্তমান কর্তৃপক্ষ। বদলি বাণিজ্যও চলছে।’ এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তিনি।
সূত্র – কাল বেলা