ভারতের কারাগারে বন্দি ১০৬৭ বাংলাদেশি এবং পুলিশ লাইনে বন্দিশালার খোঁজ পেয়েছে গুম কমিশন
নিজস্ব প্রতিবেদক: ভারতের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি ১০৬৭ বাংলাদেশির তালিকা ও পুলিশ লাইনে গোপন বন্দিশালার খোঁজ পেয়েছে গুম কমিশন গুমসংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারি। কমিশনের সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত বিচারক মইনুল ইসলাম চৌধুরী জানিয়েছেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারতের বিভিন্ন কারাগারে গত দুই-আড়াই বছরে আটক হওয়া বাংলাদেশিদের নাম ও ঠিকানাসহ একটি তালিকা পাওয়া গেছে। বর্তমানে কমিশন যাচাই করছে—এই তালিকায় গুম হওয়া কোনো ব্যক্তি রয়েছে কিনা।
কমিশন জানায়, বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা পুলিশের সুপার ও বিজিবি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ভারত থেকে পুশইন হওয়া ব্যক্তিদের তথ্য চাওয়া হলে ১৪০ জনের একটি তালিকা পাওয়া গেছে। তবে এই তালিকায় গুম হওয়া ব্যক্তিদের নাম এখনও পাওয়া যায়নি।
এছাড়া, গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ১,৭৫২টি অভিযোগ জমা পড়েছে, যার মধ্যে প্রায় ১,০০০টি অভিযোগ যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়েছে। গুমের শিকার হয়ে ফিরে না আসা ৩৩০ জনের বর্তমান অবস্থাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কমিশনের প্রধান মইনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “গুমের ঘটনায় বিভিন্ন বাহিনীর সদস্য জড়িত থাকলেও পুরো বাহিনীকে দায়ী করা উচিত নয়। অপরাধীদের ব্যক্তিগত দায় নির্ধারণ করা হবে।”
গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন জানিয়েছে, পুলিশের গোপন বন্দিশালা পাওয়ার তথ্য মিলেছে। কমিশনের সদস্য নূর খান জানান, বগুড়া পুলিশ লাইনে এ ধরনের একটি বন্দিশালা পাওয়া গেছে, যেখানে বিভিন্ন স্থান থেকে বন্দিদের জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতন করা হতো।
তিনি বলেন, “পুলিশ লাইনের ভেতরে গোপন বন্দিশালা তৈরি করা হয়েছিল, যা একেবারে অবৈধ ছিল। আমাদের ধারণা, এ ধরনের বন্দিশালা আরো থাকতে পারে।” গুম কমিশনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, এই ধরনের বন্দিশালা গত ১৫ বছরের মধ্যে নির্মিত হয়েছিল এবং গত ১০-১২ বছরে এমন স্থাপনা বেশি তৈরি হয়েছে। এখানে বন্দিদের নিয়ে আসা হতো, জিজ্ঞাসাবাদ ও নির্যাতন চলত, এবং কিছু ক্ষেত্রে বন্দিরা মৃত্যুবরণও করেছে।
এ বিষয়ে গুম কমিশন জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এসব গোপন বন্দিশালার আরও সন্ধান পাওয়া যেতে পারে।
প্রসঙ্গ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গিয়ে ‘বিশেষ’ স্থানে রাখা হতো, যা পরবর্তীতে ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিতি পায়। সুইডেনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নেত্র নিউজে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে এসব স্থান সম্পর্কে জনসাধারণ জানতে পারে। গুম হওয়া ব্যক্তিদের অনেকেই শেখ হাসিনা সরকারের ক্ষমতাচ্যুতির পর আয়নাঘর থেকে ফিরে আসেন এবং তাদের বয়ানে উঠে আসে আয়নাঘরের ভয়াবহতার চিত্র।
সূত্র – ঢাকা প্রাকাশ