মু. জিল্লুর রহমান জুয়েলষ্টাফ রিপোর্টা, পটুয়াখালী : ঘটনাটি ঘটেছে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের গহিন খালি এলাকায়।
সূত্রে জানা জায়, চলতি মৌসুমে ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের গহিনখালী গ্রামের তরমুজ চাষীরা প্রতি বছরে’ই কৃষকের সুবিধা অনুযায়ী নদীর পথের কাছাকাছি অস্থায়ী একটি ঘাট করে নৌপথে তরমুজ বাজারজাত করে আসছেন।
কিন্তু এবছর তরমুজ চাষিদের সিন্ডিকেট বানিয়ে স্থানীয় কিছু জোরদার বিএনপির রাজনৈতিক দলের কর্মীর পরিচয় দিয়ে তরমুজ চাষিদের ব্যাবহার করে সরকারি রাজস্ব কর ফাঁকি দিয়ে খাস জমিতে অবৈধ ঘাট তৈরী করে হাতিয়ে নিচ্ছে সরকারি রাজস্ব।
সরকারি খাস জমিতে ঘাট নির্মাণের সরকারি নিয়োম অনুযায়ী খাস কালেকশন বা খাজনা আদায় করতে সরজমিন ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা মোঃ জাহিদুল ইসলাম গহিন খালি এলাকায় গেলে তার উপর রেগে উঠে অকথ্য ভাষায় চাঁদা আদায় মিথ্যা অভিযোগ তোলে তরমুজ চাষিদের ব্যাবহার করে রাঙ্গাবালী উপজেলার যুবদলের কর্মী পরিচয়দান কারী রাব্বি।
এবিষয়ে ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা মোঃ জাহিদুল ইসলাম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান,
আমি সরকারি কর্মচারী, আমার কাজেই’ হচ্ছে সরকারের আদেশ অনুযায়ী সরকারি খাস জমি অবৈধ ভাবে কেউ ব্যাবহার করলে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের আইনের নির্দেশ মেনে খাস কালেকশন বা রাজস্ব আদায় করা।
তিনি আরো জানানা, গহিনখালি এলাকায় অবৈধ ভাবে গড়ে উঠা ঘাটে গেলে রাঙ্গাবালী উপজেলাধীন ছোটবাইসদিয়া ইউনিয়নের ১৩০ নং জে.এল ভূক্ত পূর্ব হরিদ্রাপখালী মৌজার বি.আর.এস ০১ নম্বর খাস খতিয়ানের ৫০১ -৬৬৫, ৫৬৭-৬৬৬, ৬৬৯, ৬৭০, ৬৭২-৬৭৭, ৬৭৯-৬৮৪, ৬৮৬-৬৯৭, ৭০০, ৭০২-৭৪৯, ৭৫১-৭৫৪, ৭৫৭-৮১৮নম্বর দাগের নাল মোট ৩৮০ একর জমির মধ্যে ২০০ একর জমি দখল করে কতিপয় ভুমি দস্যু রাব্বি হাওলাদার পিতা রত্তন হাওলাদার, ইমরান হাওলাদার পিতা- বাবলু হাওলাদার, হেলাল হাওলাদার পিতা- হাসেম হাওলাদার, ইলিয়াচ প্যাদা, মোনশের আলী প্যাদা, শুকুর খলিফা ,পিতা কালু খলিফা, ইমাম খলিফা, পিতা শুকুর খলিফা, রাসেল হাওলাদার ,পিতা রত্তন হাওলাদার, বশির মাঝী,পিতা আবুল মাঝী, জুয়েল নাগর,পিতা জব্বার নাগর এবং দুলাল মোল্লা পিতা নাসির মোল্লা) স্থানিয় গরিব চাষিদের ব্যবহার করে অবৈধ ভাবে সরকারী খাস জমি দখল করে রেখেছে। কৃষকদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে স্থানীয় সিন্ডিকেট তৈরি করেছে এবং আমার বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার শুরু করছে বলে তিনি দাবি করেন।
এবিষয়ে যুবদল কর্মী রাব্বি এর মুঠোফোন কল করলে, তার স্ত্রী কল রিসিভ করে জানান তিনি বাড়িতে নেই।
রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ইকবাল হাসান সংবাদের পাতা’কে জানান,
এই বিষয়ে আমি অবগত নই। আমার কাছে কোন কৃষক মৌখিক বা লিখিত অভিযোগ করেননি। কোন কৃষক লিখিত অভিযোগ করলে উল্লিখিত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে, আমি চাই আসল সত্যটা বের হয়ে আসুক।
ঘটনার বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরিফ মুঠোফোনে জানান, ঘটনার বিষয় ইউএনও আমাকে কিছু জানায় নি, জানালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।