খুলনায় লবণাক্ত জমিতে বাড়ছে তরমুজ আবাদ
নিজস্ব প্রতিবেদক: উপকূলীয় খুলনা অঞ্চলের কৃষকের জন্য অভিশাপ ছিল মাটির অতিরিক্ত লবণাক্ততা। মিঠাপানির অভাবে বছরের অধিকাংশ সময় পড়ে থাকত ফসলি জমি।
লোনাপানি আটকে চিংড়ি চাষের কারণে এক সময় শুধু বর্ষা মৌসুমেই আমন ধান উৎপাদন হতো। এখন সেই জমিগুলোই স্বপ্ন দেখাচ্ছে উপকূলের কয়েকটি উপজেলার চাষীদের। তরমুজ চাষে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে উপকূলের কৃষি অর্থনীতি। কৃষি বিভাগ বলছে, গত কয়েক বছর এ অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে নতুনমাত্রা যোগ করেছে তরমুজ। বিভাগের মধ্যে খুলনা জেলায় সবচেয়ে বেশি তরমুজের চাষ হয়। এখানকার তরমুজ মিষ্টি ও সুস্বাদু হওয়ায় দেশজুড়ে চাহিদা। ভালো লাভ হওয়ায় চাষও বাড়ছে। ২০২৩-২৪ রবি মৌসুমে জেলায় আবাদকৃত জমির পরিমাণ ছিল প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর। চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত ১৭ হাজার হেক্টর জমি প্রস্তুত করা হয়েছে তরমুজ আবাদের জন্য। আবাদি জমির পরিমাণ আরো বাড়বে বলে মনে করেন কৃষি কর্মকর্তারা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং ভালো দাম মিললে অন্তত দেড় হাজার কোটি টাকার তরমুজ বিক্রির আশা করছেন তারা। স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, ধান চাষের চেয়ে তরমুজে লাভ বেশি। ধানের বীজ বপন থেকে শুরু করে ফসল ঘরে তুলতে অন্তত পাঁচ মাস সময় লাগে। এরপর খরচ বাদে এক বিঘা জমির ধান বিক্রি করে লাভ হয় সর্বোচ্চ ৯ হাজার টাকা। অন্যদিকে তরমুজের বীজ বপন থেকে তরমুজ সংগ্রহ পর্যন্ত সময় লাগে সর্বোচ্চ আড়াই মাস। প্রতি বিঘায় খরচ হয় ২০-২৫ হাজার টাকা। ফলন ভালো হলে বিক্রি হয় ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, খুলনায় ড্রাগন, ড্রাগন সুপার, আস্থা, আস্থা প্লাস, পাকিজা, মালিক-১, এশিয়া সুপার, থাই রেড কিং, বিগ সুপার কিং ও বাংলালিংক জাতের তরমুজ চাষ করছেন চাষীরা। ২০২৩-২৪ রবি মৌসুমে জেলায় আবাদকৃত জমির পরিমাণ ছিল প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর। তরমুজ উৎপাদন হয় ৫ লাখ ৩৩ হাজার ২৫০ টন। যার বাজার দাম ছিল ১ হাজার ৪৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা। চলতি মৌসুমে দাকোপ উপজেলায় তরমুজ চাষের জন্য ৮ হাজার হেক্টর জমি প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া কয়রায় ৪ হাজার ২০০, পাইকগাছায় ১ হাজার ৬০০, ডুমুরিয়ায় ৫০০ এবং বটিয়াঘাটায় ২ হাজার ৭০০ হেক্টর জমি চাষাবাদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।
খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘শুষ্ক মৌসুমে উপকূলের মাটিতে লবণাক্ততার পরিমাণ বেড়ে যায়। পাঁচ বছর আগেও জমিগুলো আমন ধান চাষের পর অনাবাদি পড়ে থাকত। এখন সেই জমিগুলোই স্বপ্ন দেখাচ্ছে উপকূলের কয়েকটি উপজেলার চাষীদের। অল্প সময়ে বিনিয়োগের তিন গুণ লাভ হওয়ায় আগ্রহ বাড়ছে কৃষকের। এতে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে লবণাক্ত উপকূলের কৃষি অর্থনীতি।’
সূত্র – বণিক বার্তা