প্রদেশ রাখার পক্ষে না স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশন
নিজস্ব প্রতিবেদক: ড. তোফায়েল বলেন, আমরা প্রদেশ গঠনের পক্ষে নই। জেলা পরিষদ এখনকার মতো থাকবে না, তবে সেখানে জন-অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
দেশে প্রদেশ গঠনের পক্ষে নয় স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশন। জেলা পরিষদ বিলুপ্ত না করে এটিকে আরো শক্তিশালী করতে হবে বলে মত দিয়েছেন কমিশনের প্রধান ড. তোফায়েল আহমেদ। আজ বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ‘গণতান্ত্রিক বিকেন্দ্রীকরণ ও জন-আকাঙ্ক্ষার আলোকে স্থানীয় সরকার’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে এসব তথ্য তুলে ধরেন তিনি। সংলাপের আয়োজন করে গভর্ন্যান্স অ্যাডভোকেসি ফোরাম ও ইউএনডিপি। ড. তোফায়েল বলেন, আমরা প্রদেশ গঠনের পক্ষে নই। জেলা পরিষদ এখনকার মতো থাকবে না, তবে সেখানে জন-অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, বিচার ব্যবস্থা সংস্কারের অংশ হিসেবে নিম্ন আদালত উপজেলা পর্যন্ত বিস্তৃত করা প্রয়োজন। বিচার বিভাগীয় সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবেও এ বিষয়টি রয়েছে। ফলে এটি গণদাবি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। উপজেলা পর্যায়ে একটি কোর্ট থাকবে, যেখানে ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলাগুলো আমলে নেয়া হবে।
সংলাপে দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার বিভিন্ন সংকট ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা হয়। ড. তোফায়েল বলেন, অনেক সময় স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিরা অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। চেয়ারম্যান বা মেম্বারদের কাছে থাকা ক্ষমতা ব্যবহার করে অনেকে অবৈধভাবে বালু-পাথর উত্তোলন করেন।
তিনি জানান, স্থানীয় সরকারের প্রধান সংকটগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা, ক্ষমতার অতিকেন্দ্রীকরণ, আর্থিক সীমাবদ্ধতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাব, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তির সীমিত সুযোগ।
দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরো কার্যকর করতে কমিশন ২১০টি সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছে। গভর্ন্যান্স অ্যাডভোকেসি ফোরামের পক্ষ থেকে কিছু সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়। যার মধ্যে রয়েছে — স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও দায়িত্ব বিভাজন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরাসরি ও নির্দলীয় ভিত্তিতে ভোটগ্রহণ, কর ও রাজস্ব ব্যবস্থার স্থানীয়করণ, স্থানীয় সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, তৃণমূল পর্যায়ের জনগণের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো।
সংলাপে গভর্ন্যান্স অ্যাডভোকেসি ফোরাম জানায়, তারা দেশের ৫০টির বেশি নাগরিক সংগঠনের মতামত গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, বরিশাল ও খুলনায় বিভাগীয় সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
চলতি বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত এসব সংলাপে চার শতাধিক ব্যক্তি অংশ নেন ও তাদের মতামত ও সুপারিশ উপস্থাপন করেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে দলিত সম্প্রদায়, সমতল ও পাহাড়ের আদিবাসী, হিজড়া ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবর্গ, চা শ্রমিকসহ বিভিন্ন পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ৭৭ জন প্রতিনিধি ছিলেন।
সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ওয়েভ ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক কানিজ ফাতেমা ও গভর্ন্যান্স অ্যাডভোকেসি ফোরামের ফ্যাসিলিটেটর অনিরুদ্ধ রায়।
গভর্ন্যান্স অ্যাডভোকেসি ফোরামের সমন্বয়কারী মহসিন আলীর সভাপতিত্বে সংলাপে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, আনোয়ারুল হক ও আমানুর রহমান।
সূত্র – বণিক বার্তা