ভোলায় এইচপিভি টিকা নিয়ে ৬৫ ছাত্রী হাসপাতালে ভর্তি মেডিক্যাল টিম গঠন
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় মেয়েদের জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রতিরোধী এইচপিভি টিকা দেওয়ার পর অসুস্থ হয়ে অন্তত ৬২ জন শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এদের মধ্যে ৯ জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহত শিক্ষার্থীরা উপজেলার পক্ষিয়া ইউনিয়নের জ্ঞানদা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী। মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে ওই বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সোহেল জানান, সকালের দিকে স্বাস্থ্যকর্মীরা স্কুলে এসে ছাত্রীদের এইচপিভি টিকা দেওয়া শুরু করেন। এরই মধ্যে একে একে ৬২ জন শিক্ষার্থী মাথা ঘুরে পড়ে যায়। অনেকে বমি করে দেয়। এ অবস্থা দেখে শিক্ষার্থীদের বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এর মধ্যে ৯ জনের অবস্থা বেশি খারাপ হওয়া তাদেরকে ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সন্ধ্যা পর্যন্ত আহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভোলা সদরে ৯ জন ও বোরহানউদ্দিন হাসপাতালে ৭ জন শিক্ষার্থী ভর্তি রয়েছে। বাকিরা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
তিনি আরো জানান, শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা টীকা দিতে যাওয়া স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর চড়াও হন এবং তাদের অবরুদ্ধ করে রাখেন।পরে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।
বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার নিরুপম সরকার সোহাগ জানান, মূলত আতঙ্ক থেকে বাচ্চাদের এমনটি হয়েছে। এটা এক ধরনের মাস-সাইকোলজিক্যাল ইলনেস। এর মাধ্যমে একজন আতঙ্কিত হয়ে পড়লে তাকে দেখে অন্যদের মধ্যেও এটি ছড়িয়ে পড়ে। এতে ভয়ের কিছু নেই।
নার্ভাসনেস থেকে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়েছে। বিশ্রাম নিলেই কিছু সময়ের মধ্যে সুস্থ হয়ে যাবে।
বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাইহানুজ্জামান জানান, সকাল ১১টার দিকে ওই প্রতিষ্ঠানের ৬ষ্ঠ, ৭ম ও ৮ম শ্রেণির ছাত্রীদের এইচপিভি টিকা দেওয়া হয়। এ সময় কিছু ছাত্রী অসুস্থবোধ করলে তাদের হাসপাতালে আনা হয়। এর মধ্যে ৫২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
ভোলার জেলা প্রশাসক মো. আজাদ জাহান বোরহানউদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি শিক্ষার্থীদের দেখার পর সাংবাদিকদের জানান, চিকিৎসকদের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তার পরেও বাচ্চাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে।
সূত্র – কালের কন্ঠ