পিরোজপুর প্রতিনিধি।
পিরোজপুরের নেছারাবাদে বৃদ্ধ দম্পতিকে এক কাপড়ে ঘর থেকে বের করে দিয়ে ভিটেমাটি দখল করার অভিযোগ উঠেছে সাবেক ইউপি সদস্যে মো. সোবাহান মিয়ার বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী বৃদ্ধ দম্পতি বিচারের জন্য দ্বারে দ্বারে গিয়েও বিচার পাচ্ছে না। অভিযুক্ত সোবাহান মিয়ার ভাষ্য খরিদ সূত্রে ওই জমির মালিক তিনি।
শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের বিন্না গ্রামের ৬ নং ওয়ার্ডে এই ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয়রা জানান, সুখরঞ্জন হালদার (৭০),স্ত্রী সবিতা মিস্ত্রী (৬৫) দুইটি কন্যা সন্তানের জনক জননী। মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দুজনে থাকতো ভিটে মাটিতে। শরীরের নানা রোগ-শোকে বেশি সময় অসুস্থ থাকতে হয় সবিতার স্বামীকে। মেয়ে জামাইদের সহায়তায় টেনেটুনে চলে তাদের পরিবার। ঘটনার দিন প্রায় শতাধিক লোকজন এসে আকস্মিকভাবে তাদের ভিটে মাটিতে অবস্থানরত ঘর ভেঙ্গে ফেলে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও কাগজপত্র নিয়ে যায় তারা। ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী বৃদ্ধ দম্পতি অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।
এ বিষয়ে সবিতা রানী হালদার জানান, টাকার অভাবে মামলা লড়তে বিলম্বনা হয়েছে, তাই মামলার রায় সোবাহান মিয়ার পক্ষে যাওয়ার সাথে সাথে ন্যায় বিচারের আশায় আমরা আপিল করেছি। সোবান মিয়া আপিল অমান্য করে গায়ের জোড়ে আমাদের মাথা গোজার ঠাইটুকু কেড়ে নিয়েছে। মাথা গোজার ঠাই হারিয়ে অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে অন্যর বাড়ীতে আশ্রিত রয়েছি। আমার শশুর ১৯৯৩ সালে বার্ধক্যজনিত রোগে বাড়ীতে বসে মারা গেছেন। ১৯৯৭ সালে সে কিভাবে দলিল দিয়েছে। সোবাহান মিয়া একটি জাল দলিল করে অন্যায়ভাবে সাতপুরুষ ধরে বসবাসরত আমাদের ভিটামাটি জোড়পূর্বক দখল নিয়েছে। মামলা চলাকালীন সময় কিভাবে আমাদের ভিটেমাটি দখল করে ও বসত ঘর ভেঙ্গে ফেলেছে আমি এর বিচার চাই।
অভিযোগ অস্বীকার করে সোবাহান মিয়া বলেন, খরিদ সূত্রে এই জমির মালিক আমি। কোর্টে মামলা করে আদালতের রায়ে আমি বসতঘরসহ জমি দখল করেছি। আমি ১৯৯৭ সালে সবিতার শশুর কেশব হালদারের কাছ থেকে ওই জমি কিনেছি। আদালতে মামলা করে আমি জমি পেয়েছি তাই সকল নিয়ম মেনে ভিটে মাটি দখল করেছি। সবিতার শশুর কেশব হালদার আমাকে ১৯৯৭ সালে দলিল দিয়ে ১৯৯৮ সালে মারা গেছেন। কেশব হালদারের মৃত্যুর কোন সঠিক প্রমানপত্র দেখাতে পারেননি সোবাহান মিয়া।
ভুক্তভোগী সবিতা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে আনা তার শশুরের মৃত্যু সনদ দেখিয়ে বলেন, তার শশুর ১৯৯৩ সালে মৃত্যু বরন করেছেন। সে কিভাবে ১৯৯৭ সালে জমির দলিল দিয়েছেন। সবিতার মত অভিযুক্ত সোবাহান মিয়া কেশব হালদারের মৃত্যুর কোন প্রমান দেখাতে পারেনি।
বলদিয়া ইউপি চেয়াম্যান মো: সাইদুর রহমান জানান, সাবেক ইউপি সদস্য সোবাহান মিয়া নাকি সবিতা মিস্ত্রীর শশুর কেশব হালদারের কাছে ১৯৯৭ সালে জমি কবলা করেছেন। তার এক বছর পর তিনি মারা গেছেন। এ কথা সোবাহান আমাকে বলেছেন। তবে এ মর্মে সোবাহান মিয়া জমি দাতার কোন মৃত্যু সনদ দেখাতে পারেনি। সোবাহান কোর্টে মামলা দিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, জমিদাতা কেশব হালদার তাকে ১৯৯৭ সালে দলিল দিয়ে ১৯৯৮ সালে মারা গেছেন। অপরপক্ষে সবিতা কোর্টে বলেছে তার শশুর ১৯৯৩ সালে মারা গেছেন। তখন কোর্ট আমাকে তলব করে। আমি পরিষদের মৃত্যু সনদের রেজিস্টার নিয়ে হাজির হয়ে দেখিয়েছি। খাতায় কেশব হালদারের মৃত্যু তারিখ ১৯৯৩ সালের ১০ অক্টোবর। এমনকি উপজেলা স্যানিটারি অফিসের রেজিস্টারেও মৃত্যু তারিখ একই।
নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: মনিরুজ্জামান জানান, আমি বিষয়টি স্থানীয় চৌকিদার এবং আমাদের সেনাবাহীনির মাধ্য বিষয়টি শুনেছি। তখন স্থানীয়ভাবে খবর নিয়ে জানতে পেরেছি, সোবাহান মিয়া নাকি আদালদের উচ্ছেদ অভিযানের রায় নিয়ে জমিটি দখল করেছেন। এখন বিষয়টি আদালতের ব্যাপার।