পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার আইরন জয়কুল মোদাসসের মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ নান্না মিয়ার পদত্যাগের দাবিতে ছাত্র-ছাত্রীরা গত এক সপ্তাহ পর্যন্ত ক্লাস বর্জন করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল চালায়।
সরজমিনে গিয়ে জানা গেছে, উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা সাবেক সচিব ও মন্ত্রী মরহুম এম এ মতিউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত আইরন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নান্না মিয়া এই স্কুলে যোগদানের পর থেকেই তার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি সহ বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে।
দীর্ঘদিন যাবত দলীয় ক্যাডারদের সহযোগিতায় তিনি তার অপকর্ম চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।
৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর এলাকার সাধারণ মানুষ, ছাত্র-ছাত্রী অভিভাবক তার বিভিন্ন অনিয়ম হয়রানীর বিষয় মুখ খুলতে শুরু করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গত এক সপ্তাহ ধরে ওই স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা ক্লাস বর্জন করে স্কুল কমিটির বর্তমান সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্বজল মোল্লার নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি স্কুল পরিদর্শন করে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে ক্লাসে ফিরানোর বারবার চেষ্টা করলেও ছাত্র-ছাত্রীরা এক দফা এক দাবি প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগ এই আন্দোলনে অনর থাকেন।
দিন দিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় গত বুধবার বিকেলে কাউখালী উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম আহসান কবিরকে সাথে নিয়ে ছাত্র-ছাত্রী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক ও ছাত্র অভিভাবকদের নিয়ে জরুরী বৈঠক করেন।
এ সময় স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবক বৃন্দ
প্রধান শিক্ষক বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সাথে যৌন হয়রানির বিবরণ তুলে ধরেন, ছাত্র-ছাত্রীরা অভিযোগ করে বলেন দুই বছর পর্যন্ত স্কুলে কোন উপবৃত্তির আবেদন করা হয় নাই, প্রধান শিক্ষক স্কুলে নিয়মিত আসেন না, ক্লাসে শার্ট খুলে চেয়ারে বসেন।
মেয়েদের স্পর্শকাতরার স্থানে হাত দেন এবং বিভিন্ন অঙ্গ ভঙ্গিমার মাধ্যমে ছাত্রীদেরকে ইভটিজিং করেন। এছাড়াও তারা অভিযোগ করে বলেন প্রধান শিক্ষক স্কুল কক্ষে ধূমপান করেন, ফরম ফিলাপ, রেজিস্ট্রেশন পত্র, প্রশংসা পত্র সহ ছাত্র-ছাত্রীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেওয়া অথবা ঠিক করার জন্য তার কাছে গেলে সরকারি বিধিবিধান না মেনে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করার অভিযোগ করেন তারা।
এ সময় ছাত্র-ছাত্রীরা প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগ না করা পর্যন্ত ক্লাসে না ফেরার ঘোষণা দেয়।এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে আলাপ-আলোচনা করে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি কে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য দায়িত্ব প্রদান করেন।
তদন্তকালীন সময় সহকারি প্রধান শিক্ষককে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালনের জন্য বলেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ন্যায় বিচার করা হবে মর্মে আশ্বস্ত করলে ছাত্র-ছাত্রীরা এক সপ্তাহ ক্লাস বর্জনের পর ছাত্র-ছাত্রীরা আবার ক্লাসে ফিরেছে।