বানারীপাড়া প্রতিনিধি : বানারীপাড়া উপজেলায় জাতীয় কন্যা শিশু দিবস অত্যন্ত দায়সারা ও নামমাত্রভাবে পালিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার কোনো আয়োজন না করেই কেবল একটি স্কুলকে কেন্দ্র করে দিবসটি পার করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা দীপিকা রানী সেনের বিরুদ্ধে। সরকারি একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে এমন উদাসীনতা ও স্বেচ্ছাচারিতাকে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
নির্ধারিত কর্মসূচি ও সরকারি নির্দেশনার লঙ্ঘন
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জাতীয় কন্যা শিশু দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয়ভাবে সুনির্দিষ্ট কিছু কর্মসূচি পালনের নির্দেশনা ছিল। এর মধ্যে রয়েছে—র্যালি, বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্থানীয় সাংবাদিকদের নিয়ে মতবিনিময় সভা এবং উপস্থিত কন্যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ। এছাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কন্যা শিক্ষার্থীদেরও এই কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে উপস্থিত রাখার কথা ছিল। কিন্তু বানারীপাড়ায় এসব নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে কেবল একটি মাত্র স্কুলকে নিয়ে দায়সারা আনুষ্ঠানিকতা রক্ষা করা হয়। বিশেষ করে দিবসটির অন্যতম মূল আকর্ষণ—চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার কোনো আয়োজনই করা হয়নি। এ বিষয়ে বানারীপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মাকসুদা আক্তারের কাছে জানতে চাইলে তিনি স্পষ্ট জানান যে, সেখানে কোনো চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা হয়নি। এ ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে—তাহলে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার জন্য সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত টাকা কোথায় গেল?
অন্যদিকে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপস্থিত না রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে বানারীপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার খঘপতি রায় জানান, এ সংক্রান্ত কোনো চিঠি বা তথ্য তাদের দপ্তরে জানানো হয়নি।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা মহিলা অধিদপ্তরের মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা বলেন, “এটি একটি জাতীয় প্রোগ্রাম এবং এটি সফলভাবে সম্প্রচার করা আমাদের দায়িত্ব। এককভাবে কেউ এটি এড়িয়ে যেতে পারে না।”চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে হবে। এদিকে বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বায়েজিদুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, “এটি মূলত মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার প্রোগ্রাম।” এদিকে পুরো বিষয়ে অভিযুক্ত উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা দীপিকা রানী সেনের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তাঁর ব্যবহৃত (০১৭০৫১৫৩৫৮৩) মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সাধারণত কোনো কর্মকর্তা একই কর্মস্থলে তিন বছরের বেশি সময় চাকরি করার বিধান নেই। অথচ বিগত প্রায় ২০ বছর ধরে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা দীপিকা রানী সেন একই উপজেলা তথা বানারীপাড়াতেই বহাল তবিয়তে চাকরি করে আসছেন। এমনকি বানারীপাড়াতেই তাঁর স্থায়ী বসবাস গড়ে উঠেছে বলে জানা যায়। বিভিন্ন দপ্তরকে ম্যানেজ করে দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে একই এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখে কাজ করায় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে বানারীপাড়ায় এত মধু কোথায়? দীর্ঘদিন ধরে একই স্থানে অবস্থান করার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে, যা দিন দিন তাঁকে সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন দপ্তরের কাছ থেকে জনবিচ্ছিন্ন করে তুলছে। সরকারি নির্দেশ অমান্য করে কন্যা শিশু দিবসের মতো একটি জাতীয় দিবসকে এভাবে অবমূল্যায়ন এবং বরাদ্দকৃত অর্থ লোপাটের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। অবিলম্বে এ বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।