নিজস্ব প্রতিবেদন : মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলা খাদ্যগুদাম থেকে ১৩০ টন চাল-গম গায়েবের ঘটনায় অভিযুক্ত গুদাম উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা ফারহানা আক্তার ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিপুল কুমারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাতে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মো. আইয়ুব রায়হান তাদের বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।তিনি বলেন, এ অডিট চলাকালে আমরা ঘিওরের গুদামটিতে গরমিল খুঁজে পাই। এর পরিপ্রেক্ষিতেই যারা এর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, তদন্তের স্বার্থে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে গুদামটি আমি আগেই বন্ধ করে দিয়েছিলাম।
এর আগে বুধবার ২৬ আগস্ট ঢাকা থেকে আসা খাদ্য অধিদপ্তরের পরিদর্শক দল গুদামে অডিট পরিচালনা করেন। এ সময় সরকারি হিসাবের সঙ্গে গুদামের প্রকৃত মজুতের তথ্যে বড় ধরনের অসংগতি ধরা পড়ে। হিসাব অনুযায়ী গুদাম থেকে ১১০ টন চাল ও ২০ টন গম কোনো হদিস মেলেনি, যার আনুমানিক মূল্য ৭০ লাখ টাকা।এ ঘটনার পর অডিট কার্যক্রমের স্বার্থে ও তথ্যের অসংগতি বিস্তারিত অনুসন্ধানের জন্য পুরো গুদাম সিলগালা করে দেয় প্রতিনিধিদল।সিলগালার ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা ফারহানা আক্তার ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্মকর্তা বিপুল কুমার গা ঢাকা দেন এবং মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
গঠিত অডিট দলের এই পদক্ষেপের পর বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবার দৈনিক কালবেলায় সংবাদ প্রকাশিত হলে বিভাগীয় পর্যায়ে তোলপাড় শুরু হয়। এর ভিত্তিতেই দ্রুত আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা ফারহানা আক্তারসহ খাদ্য পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) বিপুল কুমারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
সূত্র – কাল বেলা