নিজস্ব প্রতিবেদন : অনলাইন জুয়ার প্রতিবাদ করায় আরিফুল ইসলাম (৩২) নামে এক কলেজ শিক্ষককে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে সংঘবদ্ধ জুয়া চক্রের বিরুদ্ধে। হামলার ৮ দিন পরও জ্ঞান ফেরেনি আহত শিক্ষকের। ওই শিক্ষক বর্তমানে ঢাকার এভারকেয়ার হাসাপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছে পরিবার।এর আগে গত ১ আগস্ট লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের গন্ধমরুয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত আরিফুল ইসলাম লালমনিরহাট সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে।এ ঘটনায় ছয়জন অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো ব্যবসায়ীসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে আদিতমারী থানায় মামলা করেছে শিক্ষক আরিফুল ইসলামের বাবা আবু বক্কর সিদ্দিক।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে দুর্গাপুর ইউনিয়নের গন্ধমরুয়া এলাকার রহিদুল ইসলাম ও হাসান আলী, মাসুদ আলী, অনলাইন জুয়া-ক্যাসিনোর একটি গ্রুপ পরিচালনা করে আসছিলেন। তাদের মাধ্যমে এলাকার অনেকেই জুয়ায় জড়িয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন। জুয়ার টাকা পরিশোধ করতে না পেরে কেউ কেউ পালিয়ে বেড়াচ্ছেন, আবার কেউ পরিবার-পরিজন ছেড়ে ঢাকায় চলে গেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, কলেজ শিক্ষক আরিফুল ইসলাম সচেতন নাগরিক হিসেবে ওই যুবকদের অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো থেকে বিরত থাকতে নিষেধ করে করেছিলেন। একই সঙ্গে তারা এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ না করলে বিষয়টি পুলিশকে জানাবেন বলে হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন তিনি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গত ১ আগস্ট কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে আরিফুল ইসলামের ওপর হামলা চালায় অভিযুক্তরা। এ সময় তাকে লোহার রড দিয়ে পেটানোর পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে অবস্থার অবনতি আরিফুল ইসলামকে ঢাকায় পাঠানো হয়।শিক্ষক আরিফুল ইসলামের বাবা আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, আমার ছেলের অবস্থা ভালো নয়। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। গত আট দিন ধরে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। চিকিৎসকরা তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন। মামলা করার সাত দিন পার হলেও পুলিশ এখনো কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব সজিব জানান, এ ঘটনায় আহত শিক্ষকের বাবার ৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্র – কাল বেলা