বদিউজ্জামান রাজাবাবু ;রাজশাহী ব্যুরো: যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়াধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন “দেশের ৬৪ জেলায় শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি (১ম সংশোধিত)” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ৬ষ্ঠ ব্যাচের লিখিত পরীক্ষা। শুক্রবার (৬ মার্চ) সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এ পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে প্রায় ৬০ হাজার পরীক্ষার্থী।
ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচির এ ব্যাচে মোট ৪ হাজার ৮০০টি আসনের বিপরীতে আবেদন করেছিলেন ১ লাখ ১০ হাজার ৭৪৩ জন। সেখান থেকে বাছাই করা আবেদনকারীদের নিয়ে এই লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে একযোগে অনুষ্ঠিত হওয়া এ পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীদের নির্বাচন করা হবে, যারা পরবর্তীতে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের অধীনে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ পাবেন।
জেলা পর্যায়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের প্রতিনিধিসহ সকল জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক, সহকারী পরিচালক, ডিসি মহোদয়ের প্রতিনিধি, প্রশিক্ষণ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড এর ডিভিশন হেড, সংশ্লিষ্ট জেলার কো-অর্ডিনেটর, সহকারী কো-অর্ডিনেটর, প্রশিক্ষকসহ অন্যন্য সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ এ পরীক্ষা বাস্তবায়ন ও তদারকি করছেন।
দেশের ৮টি বিভাগের ৬৪টি জেলা
ঢাকা বিভাগ: নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, ঢাকা, গাজীপুর, মাদারীপুর, শরিয়তপুর, গোপালগঞ্জ ও রাজবাড়ি; ময়মনসিংহ বিভাগ: ময়মনসিংহ, জামালপুর, নেত্রকোনা ও শেরপুর; চট্টগ্রাম বিভাগ: চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, নোয়াখালী, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, চাঁদপুর ও লক্ষীপুর; খুলনা বিভাগ: খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও নড়াইল; রংপুর বিভাগ: রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, নীলফামারী, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও; বরিশাল বিভাগ: বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, বরগুনা ও ভোলা; সিলেট বিভাগ: হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট ও সুনামগঞ্জ; রাজশাহী বিভাগ: চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নাটোর, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, জয়পুরহাট, বগুড়া ও রাজশাহী;
প্রকল্পের আওতায় ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের বিষয়সমূহ
(ক) কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন (খ) ফ্রিল্যান্সিং (গ) বেসিক ইংলিশ (ঘ) ডিজিটাল মার্কেটিং (ঙ) সফটস্কিল ট্রেনিং (চ) স্মার্টফোনের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ (ছ) গ্রাফিক্স ডিজাইন (জ) ভিডিও এডিটিং
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উদ্যোগে পরিচালিত এই কর্মসূচি ধাপে ধাপে সম্প্রসারিত হয়ে এবার দেশের সব জেলায় পৌঁছেছে। এর আগে প্রকল্পটি প্রথমে ১৬ জেলায় এবং পরে ৪৮ জেলায় বাস্তবায়িত হয়। বর্তমানে ১৬ ও ৪৮ জেলা মিলিয়ে দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যা এ উদ্যোগের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আয়োজন। মাঠপর্যায়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এবার প্রায় ৬০ হাজার পরীক্ষার্থীর মধ্য থেকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হবে ৪ হাজার ৮০০ জন প্রশিক্ষণার্থীকে। অর্থাৎ প্রতিটি আসনের বিপরীতে গড়ে ১২ থেকে ১৩ জন পরীক্ষার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এই পরিসংখ্যান দেশের তরুণ সমাজের মধ্যে ডিজিটাল দক্ষতা অর্জন এবং ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানের প্রতি ক্রমবর্ধমান আগ্রহেরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা আগামী ৭ মার্চ মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেবে। এরপর চূড়ান্ত ফলাফলের ভিত্তিতে প্রতিটি জেলায় ৭৫ জন করে প্রশিক্ষণার্থী নিয়ে শুরু হবে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের ৬ষ্ঠ ব্যাচ।
এদিকে নওগাঁয় অবস্থিত যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর জেলা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষায় প্রায় ৪০০ শত পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে। একদিনে এত বিপুলসংখ্যক পরীক্ষার্থীর অংশগ্রহণ এ খাতে একটি বড় আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের এই প্রকল্পের আওতায় এ পর্যন্ত মোট ১০ হাজার ৮০০ শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছে। এর মধ্যে প্রায় ৬২ শতাংশ, অর্থাৎ ৬ হাজার ৭৩২ জন প্রশিক্ষণার্থী জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে কাজ করে আয় করতে সক্ষম হয়েছে। তাদের মোট আয় প্রায় ১৩ লাখ ৫৩ হাজার ৬৩৬ মার্কিন ডলার যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২২ কোটি ৭০ লাখ ১৪ হাজার ৪১৬ টাকার সমপরিমাণ।
এর আগে ১৬ জেলায় বাস্তবায়িত পর্যায়ে ৬ হাজার ৪০০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৪ হাজার ৫১৭ জন আয়মুখী কাজে যুক্ত হতে সক্ষম হয়, যা ছিল প্রায় ৭০ শতাংশের বেশি সাফল্য। ওই পর্যায়ে মোট আয় হয়েছিল প্রায় ১৫ লাখ ৮১ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকার সমমান।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধারাবাহিক এই উদ্যোগ ও সাফল্যের মাধ্যমে দেশের তরুণ সমাজ আরও ব্যাপকভাবে বৈশ্বিক ফ্রিল্যান্সিং বাজারে যুক্ত হবে এবং ভবিষ্যতে এ খাতে আয় আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে