নিজস্ব প্রতিবেদন : প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথের পরদিন গতকাল বুধবার প্রথম কার্যদিবসেই মন্ত্রিসভার বৈঠক করেছেন তারেক রহমান। সরকারের সব দপ্তরের সচিবদের সঙ্গেও তার মতবিনিময় হয়েছে। এ বৈঠক ও মতবিনিময়ে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। রমজানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে যা যা করা দরকার, সে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছেন তারেক রহমান। বৈঠকে যোগ দেওয়া একাধিক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী গণমাধ্যমকে এমন তথ্য জানিয়েছেন।প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের জন্য অস্থায়ীভাবে খোলা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে জানানো হয়, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক গতকাল বিকেলে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকের শুরুতে তিনি মন্ত্রিসভার সহকর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। বৈঠকে মন্ত্রিসভার নবনিযুক্ত সদস্যরা অংশ নেন। এ সময় মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং সংশ্লিষ্ট সচিবরা উপস্থিত ছিলেন। বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া এ বৈঠকের মাধ্যমে সচিবালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেন নতুন প্রধানমন্ত্রী। এটি মূলত ছিল পরিচিতিমূলক সভা।জানা গেছে, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তার দলের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী দেশ পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে দিকনির্দেশনা দেন। এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তারেক রহমান সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পৌঁছান। সেখানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার তাকে স্বাগত জানান।বৈঠক শেষে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর সাংবাদিকদের বলেন, ‘মন্ত্রিসভার বৈঠকে সেহরি, ইফতার ও তারাবির সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। রমজানে দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক রাখা, বিশেষ করে সেহরি, ইফতার, তারাবির সময়টা যেন বিদ্যুৎ নিরবচ্ছিন্ন থাকে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেন স্বাভাবিক থাকে এবং সরকারের যে কমিটমেন্ট (অঙ্গীকার), বিশেষ করে নির্বাচনের সময় প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন জায়গায় জনসভায় যে বিষয়গুলো বলেছেন—ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড সেগুলো কীভাবে ইমিডিয়েটলি আসলে কিছু দৃশ্যমান কাজ করা যায়, সে বিষয়গুলো নিয়েও তিনি আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন, আলোচনা করেছেন।’প্রতিমন্ত্রী নুর আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকারের প্রতি জনগণের যে এত বিপুল জনসমর্থন—সেটার জায়গা থেকে প্রধানমন্ত্রী আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, জনগণ আমাদের কাছ থেকে যে সুশাসন এবং জবাবদিহি চায়, সেক্ষেত্রে আমরা নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের যারা দায়িত্বে আছি, তারা যেন যে কোনো ধরনের প্রভাব ও স্বজনপ্রীতির ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করি এবং বিশেষ করে দুর্নীতির প্রশ্নে যেন আমাদের একটা শক্ত অবস্থান থাকে।’মন্ত্রিসভা নিয়ে স্মৃতিসৌধ ও বাবা-মায়ের কবরে: প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমদিন সচিবালয়ে যাওয়ার আগে বেলা ১১টায় তারেক রহমান মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে ঢাকার সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে যান। মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরাও তার সঙ্গে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে যান। সেখান থেকে ফিরে সোয়া ১২টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মা তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়ার প্রতিও শ্রদ্ধা জানান। এ সময় মন্ত্রিপরিষদের অন্য সদস্যরাও ছিলেন। তারা জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান এবং জিয়ারত করেন। শ্রদ্ধা ও জিয়ারত শেষে পৌনে ১টায় সচিবালয়ে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দুপুরে নামাজ ও মধ্যাহ্নভোজের পর বিকেল ৩টায় মন্ত্রিসভার বৈঠকে বসেন তিনি। বৈঠকে মন্ত্রিসভার সদস্যরা ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিষদের ১০ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমানের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি ভূমিধস বিজয় অর্জন করে। গত মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন প্রধানমন্ত্রী ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভায় ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন।
সূত্র – কাল বেলা