নিজস্ব প্রতিবেদন : মৌলভীবাজারের জুড়ীতে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক আবুল কালাম ওরফে বুলুচানকে (৩৫) হত্যার ঘটনায় দুই নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার দুজন হলেন উপজেলার গোয়ালবাড়ি ইউনিয়নের পূর্ব কচুরগুল নালাপুঞ্জি এলাকার আছমা বেগম (৩৮) ও তার মেয়ে লিমা আক্তার (১৯), তারা সম্পর্কে মা-মেয়ে।নিহত বুলুচান উপজেলার পূর্ব জুড়ী ইউনিয়নের দক্ষিণ বড়ধামাই গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক ছিলেন। যে অটোরিকশাটি তিনি চালাতেন, সেটির মালিক ছিলেন আছমা বেগম। নিহত বুলুচান সম্পর্কে আছমা বেগমের ননদের জামাই।নিহতের পরিবারের ভাষ্য ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার দিকে বুলুচান নিজের বাড়ি থেকে বের হন। পরে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে তিনি আছমা বেগমের বাড়িতে যান। এরপর তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ওই রাতে আছমা বেগমের বাড়ির একটি কক্ষে বুলুচান অবস্থান করছিলেন। রাত আনুমানিক ৩টার দিকে তাকে বাড়ির রান্নাঘরে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলায় আঘাত করা হয়। এতে বুলুচানের মৃত্যু হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আছমা বেগম ও তার মেয়ে লিমা আক্তার হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত একটি দা ও নিহতের মুঠোফোনসহ কয়েকটি আলামত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের জাঙ্গীরাই ব্রিজসংলগ্ন জুড়ী নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। দুপুর আনুমানিক দুইটার দিকে তারা পুলিশকে খবর দেন। পরে জুড়ী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে মরদেহের গলায় দুটি ধারালো অস্ত্রের আঘাত ও ঘাড়ে আঘাতের চিহ্ন পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। উদ্ধারের সময় তার পরনে একটি গেঞ্জি ছিল। পরে স্বজনেরা মরদেহটি বুলুচানের বলে শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় বুলুচানের ভাই হাফিজ উদ্দিন অজ্ঞাতনামা আসামি করে জুড়ী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে আছমা বেগম ও তার মেয়ে লিমা আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়। পরে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী ওয়াহিদা আক্তার সাবানা বলেন, ‘বুলুচান অনেক সময় মেহমানের বাড়িতে থাকতেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিএনজির মালিকের ভাইয়ের স্ত্রী তাকে তাদের বাড়ির বাজার করার জন্য ফোন করেন। ফোনে কথা বলার পর তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। এরপর আর বাড়িতে ফেরেননি।’
জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বুলুচান হত্যা মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে আছমা বেগম ও লিমা আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।’তিনি আরও বলেন, ‘তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত দা উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যার প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’
সূত্র – কাল বেলা