মোঃ জুনায়েদ খান সিয়াম, উজিরপুর প্রতিনিধি:গাছ লাগানো যেন তার নেশা, আর সবুজে ঘেরা একটি সুন্দর পরিবেশ গড়ে তোলাই তার স্বপ্ন। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে নিজের অর্থ, শ্রম ও সময় ব্যয় করে বছরের পর বছর বৃক্ষরোপণ করে চলেছেন বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বামরাইল ইউনিয়নের তরুণ রফিকুল ইসলাম হিমেল। ইতোমধ্যে নিজ অর্থায়নে বিভিন্ন প্রজাতির ৫ হাজারের বেশি গাছ লাগিয়েছেন তিনি।
বামরাইল ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়কের পাশে, বাড়ির আঙিনায়, খালি জায়গা ও পতিত জমিতে এসব গাছ রোপণ করেছেন হিমেল। বিশেষ করে রাস্তার দুই পাশে সারি সারি গাছ লাগিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন সবুজের মনোরম পরিবেশ। তার লাগানো গাছের সারি এখন পথচারীদের দৃষ্টি কাড়ছে।
হিমেলের লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ, বনজ ও শোভাবর্ধনকারী গাছ। কয়েক বছর আগে লাগানো অনেক গাছ ইতোমধ্যে বড় হয়ে উঠেছে। কোথাও গাছের ছায়া, কোথাও সারি সারি সবুজের সমারোহ—সব মিলিয়ে তার দীর্ঘদিনের পরিশ্রম এখন দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।
তবে শুধু গাছ লাগিয়েই দায়িত্ব শেষ করেননি হিমেল। নিজের লাগানো প্রতিটি গাছের নিয়মিত পরিচর্যাও করেন তিনি। প্রয়োজন অনুযায়ী পানি দেওয়া, আগাছা পরিষ্কার করা, গাছের চারপাশের মাটি পরিচর্যা করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত গাছের যত্ন নেওয়াসহ বিভিন্ন কাজ নিজের অর্থ ও শ্রমে করে যাচ্ছেন।
রফিকুল ইসলাম হিমেল বলেন, “গাছ লাগানোর মধ্যে আমি আনন্দ পাই। আমার সামর্থ্য অনুযায়ী যতদিন পারি গাছ লাগিয়ে যেতে চাই। আমি চাই আমার ইউনিয়নের রাস্তা ও আশপাশের এলাকা আরও সবুজ হয়ে উঠুক। আজ যে গাছটি লাগাচ্ছি, হয়তো একদিন তার ছায়ায় আমি বসব না; কিন্তু অন্য কেউ সেই ছায়ায় বসবে—এটাই আমার সবচেয়ে বড় আনন্দ।”
স্থানীয়রা জানান, কয়েক বছর ধরে অনেকটা নীরবেই এই কাজ করে যাচ্ছেন হিমেল। শুরুতে অনেকেই তার উদ্যোগকে নিছক শখ হিসেবে দেখলেও সময়ের সঙ্গে তার লাগানো গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় এখন এর সুফলও দৃশ্যমান।
তার লাগানো গাছগুলো একদিকে যেমন এলাকার সৌন্দর্য বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। রাস্তার পাশে বেড়ে ওঠা গাছগুলো পথচারীদের জন্য তৈরি করছে স্বস্তিদায়ক ছায়া ও সবুজ পরিবেশ।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পরিবেশ রক্ষায় হিমেলের মতো তরুণদের ব্যক্তিগত উদ্যোগ আরও বাড়ানো প্রয়োজন। একজনের উদ্যোগ দেখে অন্যরা উৎসাহিত হয়ে বৃক্ষরোপণে এগিয়ে এলে পুরো ইউনিয়নই একদিন আরও সবুজ ও বাসযোগ্য হয়ে উঠতে পারে।
নিজের অর্থ, শ্রম ও সময় ব্যয় করে ৫ হাজারের বেশি গাছ লাগিয়ে রফিকুল ইসলাম হিমেল শুধু বামরাইলকে সবুজ করে তুলছেন না; ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও রেখে যাচ্ছেন নির্মল বাতাস, ছায়া ও সবুজ প্রকৃতির এক মূল্যবান উপহার।
তার এই উদ্যোগ প্রমাণ করে, বড় কোনো আয়োজন বা বিপুল অর্থের প্রয়োজন নেই। একজন মানুষের ইচ্ছা, শ্রম ও ভালোবাসা থেকেই শুরু হতে পারে একটি সবুজ আন্দোলন।
তরুণ হিমেলের বৃক্ষরোপণ তাই শুধু গাছ লাগানোর উদ্যোগ নয়, এটি একটি সবুজ ভবিষ্যৎ গড়ার নীরব ও অনুকরণীয় প্রচেষ্টা।