৮ মাসের শিশুর কান্নায় কেউ যেন বিরক্ত না হন, তাই ১০০ জোড়া ইয়ার প্লাগ নিয়ে বিমানে উঠলেন বাবা
নিজের সন্তানের সম্ভাব্য কান্নার জন্য আগাম ক্ষমা চেয়ে সহযাত্রীদের হাতে তুলে দিলেন ইয়ার প্লাগ। ছোট্ট এই উদ্যোগই এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রশংসিত হচ্ছে।
চীনের হুবেই প্রদেশের ইছাং থেকে গুয়াংশি যাওয়ার একটি রাতের ফ্লাইটে ঘটে হৃদয়স্পর্শী এক ঘটনা। চেন পদবির এক যাত্রী স্ত্রী, মা এবং দুই সন্তানকে নিয়ে ভ্রমণে বের হন। তাদের ছোট সন্তানের বয়স মাত্র আট মাস।
শিশুরা উড্ডয়ন ও অবতরণের সময় কেবিনের বায়ুচাপের পরিবর্তনের কারণে অস্বস্তি অনুভব করে কেঁদে উঠতে পারে। বিষয়টি আগে থেকেই জানতেন চেন। তাই যাত্রার প্রায় এক সপ্তাহ আগে অনলাইনে ১০০ জোড়া ইয়ার প্লাগ কিনে রাখেন, যাতে শিশুর কান্নায় অন্য যাত্রীদের অসুবিধা হলে তারা তা ব্যবহার করতে পারেন।
বিমানে ওঠার পর স্ত্রী যখন শিশুটিকে কোলে নিয়ে বসেছিলেন, তখন চেন একটি স্বচ্ছ ব্যাগে ভরা ইয়ার প্লাগ হাতে নিয়ে একে একে যাত্রীদের কাছে যান। তিনি বিনয়ের সঙ্গে জানান, তার সন্তান বর্তমানে ঘুমিয়ে থাকলেও উড্ডয়ন বা অবতরণের সময় কেঁদে উঠতে পারে। এতে কারও অসুবিধা হলে যেন তারা ইয়ার প্লাগ ব্যবহার করেন। একই সঙ্গে তিনি আগাম ক্ষমাও প্রার্থনা করেন।
তবে চেনের এই আন্তরিকতায় মুগ্ধ হন সহযাত্রীরা। অধিকাংশ যাত্রীই ইয়ার প্লাগ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, শিশুর কান্না খুবই স্বাভাবিক বিষয়। একজন বাবা-মায়ের এ জন্য ক্ষমা চাওয়ার প্রয়োজন নেই। শেষ পর্যন্ত ১০০ জোড়ার মধ্যে মাত্র ২০টির কিছু বেশি ইয়ার প্লাগ বিতরণ করা সম্ভব হয়।
সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো, পুরো যাত্রাপথে শিশুটি ছিল বেশ শান্ত। শুধু উড্ডয়ন ও অবতরণের সময় অল্প সময়ের জন্য কেঁদেছিল। সহযাত্রীদের ইতিবাচক মনোভাব ও সহযোগিতায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন চেন। তিনি বলেন, এমন সহানুভূতিশীল মানুষের সঙ্গে ভ্রমণ করতে পেরে নিজেকে সত্যিই ভাগ্যবান মনে হয়েছে।
ফেরার ফ্লাইটেও অবশিষ্ট ইয়ার প্লাগগুলো সঙ্গে নিয়েছিলেন তিনি। তবে এবার নিজে যাত্রীদের কাছে না গিয়ে সেগুলো কেবিন ক্রুদের হাতে তুলে দেন, যেন প্রয়োজন হলে তারা তা বিতরণ করতে পারেন।
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর হাজারো মানুষ চেনের দায়িত্বশীলতা, ভদ্রতা ও মানবিক মানসিকতার প্রশংসা করেন। অনেকেই মন্তব্য করেন, শিশুর স্বাভাবিক কান্নার জন্য কোনো বাবা-মায়ের ক্ষমা চাওয়ার প্রয়োজন নেই। তবুও অন্যের স্বাচ্ছন্দ্যের কথা আগে থেকেই ভাবা এবং সম্ভাব্য অসুবিধা কমানোর চেষ্টা করা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।
এই ছোট্ট উদ্যোগ আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, পারস্পরিক সহমর্মিতা, সৌজন্যবোধ ও একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাই একটি সুন্দর সমাজ গঠনের অন্যতম ভিত্তি।