পুরনো যুদ্ধবিমানে ভয়াবহ দুর্ঘটনা: ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকিরসহ ২০ জনের প্রাণহানি
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা | ২১ জুলাই ২০২৫রাজধানীর উত্তরা মডেল টাউন এলাকায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে কমপক্ষে ২০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে আছেন বিমানটির পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মোহাম্মদ তৌকির ইসলাম, ১৭ জন শিক্ষার্থী ও ২ জন শিক্ষক। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৬০ জন, যাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
বিকেল ১টা ৬ মিনিটে উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকায় প্রশিক্ষণরত F-7 BGI মডেলের একটি যুদ্ধবিমান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাইলস্টোন স্কুল ভবনে আছড়ে পড়ে। ঘটনার পরপরই পুরো ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে আশপাশের এলাকা।
পাইলটের বীরত্ব
বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার আগমুহূর্ত পর্যন্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির বিমানটিকে জনবহুল এলাকা থেকে সরিয়ে নিতে আপ্রাণ চেষ্টা করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তিনি প্যারাসুট ব্যবহার করে নিজেকে বাঁচাতে পারতেন, কিন্তু তিনি শেষ মুহূর্তে চেষ্টা করেছিলেন বিমানটিকে ফাঁকা জায়গায় নামাতে। তাঁর সেই আত্মত্যাগ প্রাণ রক্ষা করেছে বহু মানুষের।
পুরনো বিমানে প্রশিক্ষণ, প্রশ্ন তুলছে অনেকে
দুর্ঘটনাকবলিত বিমানটি ছিল চীনের তৈরি পুরনো মডেলের F-7 BGI, যা ১৯৭০-এর দশকে ডিজাইন করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে এই বিমানগুলো বাংলাদেশের আকাশে প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হলেও এগুলোর উপযোগিতা নিয়ে সামরিক বিশ্লেষকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক প্রশিক্ষণ ও যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য এ ধরনের বিমান অনুপযুক্ত। তৌকিরের মতো এক তরুণ পাইলটের মৃত্যু সিস্টেমের অনিয়ম ও দুর্নীতির জবাব চাচ্ছে—এমন মন্তব্য করেছেন সাবেক বিমানবাহিনীর কর্মকর্তারাও।
সরকার ও বাহিনীর পদক্ষেপ
ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। গুরুতর আহতদের ঢাকার সিএমএইচ ও শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
সরকার একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। ইতোমধ্যে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও আহতদের চিকিৎসা সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
জাতির কাছে প্রশ্ন রেখে গেল তৌকির
এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও প্রশ্ন উঠে এসেছে—কেন পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ যুদ্ধবিমান দিয়ে এখনো প্রশিক্ষণ চালানো হচ্ছে?
ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকিরের আত্মত্যাগ কেবল একটি দুর্ঘটনার নয়, এটি একটি ব্যর্থ সিস্টেমের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।
আমরা গভীরভাবে শোকাহত। শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ও নিহত সকলের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। আহতদের দ্রুত সুস্থতা এবং তাঁদের পরিবার-পরিজনের প্রতি রইলো আন্তরিক সহানুভূতি।