পুলিশ-ছাত্রসংঘর্ষের পর সেনাবাহিনী মোতায়েন, উত্তেজনা চরমে**
নিজস্ব প্রতিবেদক:চট্টগ্রামের পটিয়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করে ‘পটিয়া ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করছেন ছাত্রজনতা। বুধবার (২ জুলাই) দুপুর ১২টা থেকে শুরু হওয়া এই অবরোধের কারণে মহাসড়কে শত শত যানবাহন আটকে পড়ে চরম যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তির শেষ নেই।
অবস্থার অবনতি ঘটলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নামানো হয় সেনাবাহিনী। আন্দোলনকারীরা জানান, সেনা সদস্যরা এসে বাধা দেয় এবং হুমকি দেয়—অবরোধ না তুললে লাঠিচার্জ করা হবে। পরিস্থিতি থমথমে। এর কিছু দূরেই পুলিশ সদস্যদের দেখা গেছে টিয়ার শেল ও রাবার বুলেটসহ প্রস্তুত অবস্থায় থাকতে।
এর আগে, মঙ্গলবার (১ জুলাই) রাতে পটিয়া থানায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং পটিয়া থানার ওসি আবু জায়েদ মো. নাজমুন নূর ও এসআই আসাদুর রহমানের অপসারণ দাবিতে সংগঠনটি ‘পটিয়া ব্লকেড’ কর্মসূচি ঘোষণা করে।
বুধবার সকাল ১০টার দিকে আন্দোলনকারীরা ‘চট্টগ্রামের সর্বস্তরের ছাত্র-জনতা’ ব্যানারে পটিয়া থানা ঘেরাও করেন। পরে দুপুরে মিছিল সহকারে কাজীরপাড়া বাইপাস এলাকায় এসে মহাসড়ক অবরোধ করেন। তারা টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ চালান এবং পুলিশের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন।
এতে পটিয়া বাইপাস মোড় থেকে ইন্দ্রপুল কাজীরপাড়া পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। সাধারণ মানুষ বিশেষ করে কর্মজীবীরা পড়েন চরম দুর্ভোগে। স্থানীয় মুদি দোকানি সমর খাস্তগীর জানান, “চাক্তাই গিয়ে দোকানের মাল আনতে বের হয়েছিলাম, কিন্তু আধঘণ্টা বসে থেকে আবার বাড়ি ফিরলাম।”
ঘটনার পেছনের কারণ:
আন্দোলনকারীদের দাবি, রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি দীপঙ্কর তালুকদারকে মারধর করে থানায় নিয়ে গেলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে অস্বীকৃতি জানায় এবং উল্টো ছাত্র আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায়। আহতদের কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ওই যুবকের বিরুদ্ধে থানায় কোনো মামলা না থাকায় তাকে গ্রেফতার করা হয়নি। এরপর আন্দোলনকারীরা পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়ে এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি: নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের গাজীপুর জেলার যুগ্ন আহ্বায়ক মো. তানজিল স্পষ্ট ভাষায় জানায়, “আজ যদি ছাত্রদের ওপর ক্র্যাকডাউন চালানো হয়, তাহলে ঢাকাসহ দেশের যেকোনো জায়গায় বৃহত্তর অবরোধের ডাক দেওয়া হবে।”